


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নিজের নাতিকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে আসানসোলের বাসিন্দা মাধবী মালাকার নামে এক প্রৌঢ়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র ৪০ হাজার টাকার লোভে নিজের মেয়ের ছেলেকে মাধবী বিক্রি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। মাধবী ছাড়াও রানিগঞ্জের এক চিকিৎসক সহ মোট ছ’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। রবিবার তাঁদের আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক চারজনকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজত ও বাকি দু’জনকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল এগারোটা নাগাদ আসানসোল জেলা হাসপাতালে তাঁর নাতিকে চুরি করা হয়েছে বলে হইচই শুরু করেন মাধবীদেবী। হাসপাতাল চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মাধবী মালাকার দাবি করেন, তাঁর মেয়ের চারমাস বয়সি ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালে এনেছিলেন। হাসপাতালের টিকিট করানোর জন্য এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাকে শিশুটি ধরতে দেন। টিকিট করিয়ে দেখেন তার নাতিকে নিয়ে মহিলা চলে গিয়েছেন। হাসপাতাল চত্বরে শিশু চুরির অভিযোগে নড়েচড়ে বসে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। আইসির নেতৃত্ব পুলিশ আধিকারিকরা তদন্ত নামতেই ঘটনা চাঞ্চল্যকর মোড় নেয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে মহিলার দাবি মেলেনি। ফুটেজে দেখা যায়, মাধবী দেবী হাসপাতালে ঢুকেছেন একাই, তাঁর কোলে শিশু ছিল না। তারপরই পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে মাধবী মালাকার। পুলিশ জানতে পারে, রানিগঞ্জের হাতুড়ে চিকিৎসক সৌমেন্দ্র কবিরাজের মাধ্যমে এক দম্পতির কাছে বাচ্চাটিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি বিক্রি করেছেন। শিশুটিকে উদ্ধার করতে রানিগঞ্জ রওনা দেয় পুলিশ। অভিযুক্ত চিকিৎসক সৌমেন্দ্র কবিরাজ, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে শিশুটির ক্রেতা রবি মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, রবি শিশুটিকে নিয়ে ঝাড়খণ্ড পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
জানা গিয়েছে, মাধবী মালাকারের বাড়ি হীরাপুর থানার ধুপডাঙা এলাকায়। মেয়ের ছেলেটি তাঁর কাছেই মানুষ হচ্ছিল। শিশুটিকে ডাক্তার দেখানোর নাম করে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু হাসপাতালে না এসে অভিযুক্ত চলে যান রানিগঞ্জ। সেখানেই ওই চিকিৎসকের পরিবারের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়। এরপর এক যুবকের বাইকে চেপে তিনি আসেন আসানসোল জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালে ঢুকেই শিশু চুরির নাটক করেন। শিশুটির বাবা প্রভাকর রায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ।
এই ঘটনার সঙ্গে বড় শিশু চুরি চক্রের যোগসূত্র পাচ্ছে পুলিশ। বিশেষ করে যে ভাবে একজন চিকিৎসক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এই চিকিৎসক আরও কোনো শিশু চুরির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকেও জেরা করার জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এদিন ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, শিশু চুরির অভিযোগে ছ’ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।