Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬

স্তন চেপে ধরা, সালোয়ার খোলার প্রয়াস ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ নয়, রায় পাটনা হাইকোর্টের

পাটনা হাইকোর্টে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ খারিজ, সম্ভ্রমহানি বলা হলেও অভিযুক্তকে বেকসুর ঘোষণা। বিস্তারিত জানুন।

স্তন চেপে ধরা, সালোয়ার খোলার প্রয়াস ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ নয়, রায় পাটনা হাইকোর্টের
  • ১৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পাটনা: স্তন চেপে ধরা বা সালোয়ার খোলার চেষ্টা কারও সম্ভ্রমহানির কারণ হতে পারে। তবে এই ধরনের ঘটনাকে ধর্ষণের চেষ্টা বলা যায় না। অভিযুক্তকে বেকসুর ঘোষণা করেছেন পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি পূর্ণেন্দু সিং। তাঁর বৃহসস্পতিবারের এই রায় নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। মামলাটি প্রায় দু’দশকের পুরনো। এফআইআর অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বিহারের বঙ্কা জেলার অমরপুরে ছায়া স্টুডিওতে ছবি তুলতে যান এক মহিলা। অভিযোগ, স্টুডিওর মালিক হিমাংশু পাঠক মহিলার বাবাকে কম্পিউটারে ছবি দেখতে দিয়ে বাইরে বসিয়ে রাখে। আর মেয়েকে স্টুডিওর ভিতরের ঘরে নিয়ে গিয়ে তালাবন্ধ করে দেয়। এরপর মহিলার স্তন চেপে ধরে সে। এমনকী তাঁর সালোয়ার খোলারও চেষ্টা হয়। ধর্ষণ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। তবে কান্না শুনে দরজা খুলে মেয়েকে উদ্ধার করেন তাঁর বাবা। এরপর ধস্তাধ্বস্তির পর হিমাংশু পালিয়ে যায়। পরদিন এফআইআর দায়ের করেন মহিলা। ২০১৩ সালে ধর্ষণের চেষ্টা এবং সম্ভ্রমহানির ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে হিমাংশুকে তিনবছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত।

Advertisement

সেই রায়ের বিরুদ্ধে পাটনা হাইকোর্টে যায় হিমাংশু। মামলায় হাইকোর্ট বেশ কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি খুঁজে পায়। একমাত্র স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষী বয়ান বদল করে। যে তদন্তকারী অফিসার চার্জশিট জমা দেন, মামলার শুনানিতে তাঁর মতামত যাচাই করা হয়নি। এমনকি মহিলার শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়নি। তাই ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ধোপে টেকে না। মহিলার বাবা এক্ষেত্রে মামলার একটি পক্ষ। তাই তাঁর বয়ানকে সাক্ষ্য হিসাবে ধরা যায় না। আদালত জানিয়েছে, ঘটনা পরম্পরায় মহিলার সম্ভ্রমহানি হয়েছে বলা যায়। তবে আইন অনুযায়ী, একে ধর্ষণের চেষ্টা বলা যায় না। অভিযুক্ত হিমাংশু আগে সাড়ে তিন মাস জেল হেপাজতে ছিল। তাকে সব অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়েছে হাইকোর্ট। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ