সংবাদদাতা, কাটোয়া : কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করাতে গেলে রোগীর কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবেই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। পিপিপি মডেলে সিটি স্ক্যান বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। হাসপাতালের বাইরের রোগীদেরও স্বাস্থ্যসাথীর নির্ধারণ মূল্যে সিটি স্ক্যান করার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ, সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনই অভিযোগ এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ‘গ্রিভান্স সেল’-এ জমা পড়ল। তাতে অভিযুক্ত করা হয়েছে হাসপাতালেরই এক্স-রে টেকনিশিয়ান সহ তিন কর্মীকে। ঘটনায় শোরগোল পড়েছে।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার তথা এসিএমওএইচ বিপ্লব মণ্ডল বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলে অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমাদের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই তদন্ত শুরু করব। তবে, এক্স-রে টেকনিশিয়ানের সঙ্গে সিটি স্ক্যান বিভাগের কি সম্পর্ক তাও খতিয়ে দেখব। সিটি স্ক্যান করা হয় বিনামূল্যে। সেখানে অভিযোগ পেয়েছি কনট্রাস্ট নামে একটি ওষুধ বাইরে থেকে রোগীদের কিনতে বলা হচ্ছে৷ আমরা সেটাও মিটিং করে সিটি স্ক্যান বিভাগকে নিষেধ করেছিলাম৷ তাও তারা কেন এসব করছে তা জানতে চাইব৷’ গত বছর নভেম্বর মাস নাগাদ কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের আউটডোরের কাছে এআই প্রযুক্তির সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো হয়। বেসরকারি ল্যাব থেকে মোটা টাকা খরচ করে সিটি স্ক্যান করাতে হতো রোগীদের। হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীদের বিনামূল্যেই পরিষেবা দেওয়া হয়৷ সিটি স্ক্যান করাতে গেলে কন্ট্রাস্ট ওষুধের প্রয়োজন হয় কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে। অভিযোগ উঠছে, ওই ওষুধ নাকি রোগীদের বাইরে থেকেই কিনতে বলা হচ্ছে৷ হাসপাতালের এক্স-রে টেকনিশিয়ান সহ সিটি স্ক্যান বিভাগের দুই কর্মীর নামে অভিযোগ এনেছেন কাটোয়া -১ ব্লকের জনৈক এক রোগী। তাঁর কাছ থেকে ১৬০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে৷ এছাড়াও হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগের এক টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ওই সিটি স্ক্যান বিভাগের এক কর্মীকে না কি তিনিই চুক্তি অনুযায়ী বেতন দিতেন৷ এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, এক্স-রে বিভাগের কর্মী কিভাবে সিটি স্ক্যান বিভাগের কর্মী নিয়োগ করে বেতন দেন? তবে, চুক্তি অনুযায়ী বেতন দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগও গ্রিভান্স সেলে অভিযোগ জানানো হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দু’দিন আগেই পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে নির্দেশ দেওয়া হয় তদন্তের৷ এবার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার তথা এসিএমওএইচকে তদন্ত করে রিপোর্ট নবান্নে জমা দিতে বলা হয়েছে৷ যদিও ওই এক্স-রে বিভাগের অভিযুক্ত কর্মী এদিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এক্স-রে বিভাগের কর্মী৷ কেন সিটি স্ক্যান বিভাগে যাব?’ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এক্স-রে বিভাগের টেকনিশিয়ান চাকরি পাওয়ার আগে পিপিপি মডেলে যারা সিটি স্ক্যান বসিয়েছে, সেই সংস্থার কর্মী ছিলেন। বর্তমানে ওই টেকনিশিয়ানের স্ত্রী সিটি স্ক্যান বিভাগের সংস্থার নিয়োগ করা কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তাই ঘটনা নিয়ে কোনও চক্র রয়েছে কি না, জানতে তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।