


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অবশেষে জট কেটেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত বিজয়ের দল টিভিকের নেতৃত্বেই নতুন জোট সরকার গঠিত হবে তামিলনাড়ুতে। শনিবার বিজয় তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের সঙ্গে চতুর্থবার দেখা করে ১২০ জন বিধায়ক সঙ্গে থাকার চিঠি দেখিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানান। বিজয়ের শপথগ্রহণ আজ রবিবারই। মাত্র দুটি আসন নিয়ে তামিলনাড়ুর ভিসিকে কখনও বিজয়, কখনও এআইএডিএমকে, দুই দলকেই সমর্থনের আশা দেখিয়েছিল। বিজয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, বামপন্থী দুই দল সহ আঞ্চলিক দলগুলি। অন্যদিকে বিজয় সরকার গঠন করতে পারছেন না দেখে উদ্যোগী হয়েছিল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে। ভিসিকে একটি অদ্ভুত শর্ত দেয়। তারা এআইএডিএমকেকে বলে, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পদ দেওয়া হলে, আমাদের দুই বিধায়ক আপনাদের সমর্থন করবে। শনিবার দুপুরেই এআইএডিএমকে জানিয়ে দেয় ওই শর্তে রাজি হবে না তারা। অর্থাৎ ডিএমকে, এআইএডিএমকে এত আসন নিয়েও মুখমন্ত্রী পদ পাবে না। আর দুটি আসনের দল মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবে! এআইএডিএমকের থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ভিসিকে উপায়ান্তর না দেখে বিজয়কে সমর্থনের চিঠি দেয়। সুতরাং আপাতত জট কেটে গিয়ে ডিএমকে এবং এআইডিএমকে ছাড়া আর এক দ্রাবিড় দল টিভিকে এবার সরকার গঠন করতে চলেছে। ১৯৬৭ সালে ডিএমকে প্রথমবার কংগ্রেসকে নির্বাচনে পরাজিত করে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করেছিল। সেই শাসক দলে ছিলেন দুই বন্ধু। সিনেমার চিত্রনাট্যকার এম করুণানিধি এবং নায়ক এম জি রামচন্দ্রন। কিন্তু ৬ বছরের মধ্যেই তাঁদের বন্ধুত্বে চিড় ধরে। ১৯৭৩ সালে ডিএমকে থেকে বেরিয়ে এসে সুপারস্টার এম জি রামচন্দ্রন এআইএডিএমকে গঠন করেন। সেই থেকে কখনও এই দল, কখনও আবার প্রতিপক্ষ ডিএমকে, এই দুই দলই তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন করে চলেছে। এমজিআরের পর তাঁর দলের দায়িত্ব নেন প্রেমিকা ও তাঁর বহু সিনেমার হিরোইন জয়রাম জয়ললিতা। তিনিও মুখ্যমন্ত্রী হন একাধিকবার। এমজিআর, করুণানিধি, জয়ললিতার মৃত্যু হয় একে একে। তারপর থেকে গ্ল্যামার কমে যায় তামিল রাজনীতিতে। আবার সেই রুপোলি পর্দার আর্কলাইট ফিরে এল তামিলনাড়ুতে। সুপারস্টার এবং রাজনীতির নয়া নায়ক বিজয় এবার হবেন মুখ্যমন্ত্রী। কংগ্রেস জোটে থাকায় তামিলনাড়ুতেও কংগ্রেস জোট সরকার হতে চলেছে।