Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রহড়ায় সরকারি পুকুর ভরাট, অভিযোগ খোদ পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলের বিরুদ্ধে, তিনদিনের মধ্যে জলাশয় আগের অবস্থায় ফেরাল প্রশাসন

পুকুর বা জলাজমি ভরাটের বিরুদ্ধে বারবার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রহড়ায় সরকারি পুকুর ভরাট, অভিযোগ খোদ পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলের বিরুদ্ধে, তিনদিনের মধ্যে জলাশয় আগের অবস্থায় ফেরাল প্রশাসন
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুকুর বা জলাজমি ভরাটের বিরুদ্ধে বারবার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই বার্তাকে থোড়াই কেয়ার করছেন তাঁর দলেরই নিচুতলার জনপ্রতিনিধিরা! এবার একটি সরকারি পুকুর মাটি ফেলে ভরাটের অভিযোগ উঠল রহড়া থানার পাতুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। থানায় লিখিত অভিযোগ হতেই অবশ্য নড়েচড়ে বসে ব্লক প্রশাসন। তিনদিনের মধ্যে ফের ওই পুকুর থেকে সমস্ত মাটি তুলে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়েছে।

Advertisement

পাতুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রুইয়া পূর্বপাড়া এলাকা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া। ওই এলাকার বাসিন্দা গৌতম বিশ্বাস ওরফে লাল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারের একটি পুকুরে গত চার বছর ধরে মাছ চাষ করছিলেন। যদিও পুকুরটি সরকারি সম্পত্তি। তবে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল। তা পরিষ্কার করে চাষ শুরু করেছিলেন গৌতমবাবু। শুক্রবার ভোরে তিনি খবর পান, ওই পুকুরটি মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। গৌতমবাবু রহড়া থানায় লিখিত অভিযোগে বলেছেন, আমি পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখি, অতনু দাস ওরফে ছোটন দাঁড়িয়ে থেকে পুকুর ভরাট করাচ্ছেন। আমি গিয়ে প্রতিবাদ করায় ওঁরা চলে যান। তবে তার মধ্যেই মাটি ফেলে পুকুরটি প্রায় ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে।
এই ছোটন পাতুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তপতি দাসের ছেলে। এভাবে সরকারি পুকুর ভরাট নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। নড়েচড়ে বসে ব্লক প্রশাসন। সোমবার বারাকপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর রাজবংশী সহ স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ওই পুকুরে জেসিবি নামানো হয়। দিনভর চেষ্টার পর পুকুর থেকে মাটি তুলে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত প্রধান তপতি দাস বলেন, পুকুর থেকে মাটি তোলা হয়েছে। পুকুর কে ভরাট করেছিলেন, তা জানি না। আমার ছেলের নামে থানায় অভিযোগ হয়েছে কি না, তাও বলতে পারব না। খড়দহ ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জলাজমি ভরাট করা যায় না। আমরাও শুনেছি, এই পুকুর ভরাটের বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলের নামে অভিযোগ হয়েছে। তবে পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এদিন পুকুরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যায় যে করুক না কেন, আইন আইনের পথে 
চলবে। কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ