সংবাদদাতা, বহরমপুর: কম্পোজিট গ্রান্টের অনুদান না দেওয়ায় স্কুল চালাতে শিক্ষকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। স্কুলের চক, ডাস্টার, খাতা, কিটস, শৌচালয় ও স্কুল পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ বিল সহ মোট ২৩টি খাতে এই টাকা খরচ করা হয়। আচমকা কম্পোজিট গ্রান্ট না মেলায় স্কুল চালাতে শিক্ষকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আপাতত প্রধান শিক্ষকের পকেট থেকেই স্কুলের খরচ চলছে। বহু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কার্যত হাল ছাড়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন। রাজ্যে সরকারের পালা বদলের পর বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন কম্পোজিট গ্রান্টের বকেয়া মেটার পাশাপাশি এই খাতের অনুদান নিয়মিত করার দাবি তুলেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে কেন্দ্রের সমগ্র শিক্ষা মিশন সূত্রে জানানো হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তৎকালীন তৃণমূল সরকার কম্পোজিট গ্রান্টে শেষ বার এককালীন ৫০ শতাংশ টাকা মিটিয়েছিল। পরে কম্পোজিট গ্রান্টের পরিমান ২৫ শতাংশ কমানো হলেও আর তা দেওয়া হয়নি। স্কুলের পড়ুয়ার আনুপাতিক হারে কম্পোজিট গ্র্যান্ট বরাদ্দ করা হয়। ১-৩০ জন পড়ুয়া থাকলে সেই বিদ্যালয় বার্ষিক ১০ হাজার টাকা পেত। ৩১-১০০ জন পড়ুয়া থাকলে ২৫ হাজার, ১০১-২৫০ জন পড়ুয়া থাকলে ৫০ হাজার, তার ঊর্ধে পড়ুয়া থাকলে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হতো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দাবি, সরকার বরাদ্দ টাকা না দিলেও আমরা পঠন পাঠনের খরচ বন্ধ করতে পারিনি। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখাও যায়না। পড়ুয়াদের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচালয়, স্কুল পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এই দায়ভার বহন করে আসতে হচ্ছে। বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজের পকেটের টাকায় সমস্ত খরচ চালিয়ে এসেছি। এবার সত্যিই আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এহেন সমস্যায় বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এগিয়ে এসেছেন। শিক্ষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে সমস্যার আশু সমাধানের দাবি তোলা হয়েছে। ডব্লুবিটিএ শিক্ষক সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা মহফুজ আলম( ডালিম) বলেন, সমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ চরম সমস্যায় পড়েছেন এটা সত্য। পূর্বতন তৃণমূল সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কম্পোজিট গ্রান্টের ৫০ শতাংশ মেটানোর পর আর দেয়নি। রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি থাকবে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া মিটিয়ে তা নিয়মিত করা হোক। নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বহরমপুর জোনাল সম্পাদক দয়াময় দাস বলেন, কম্পোজিট গ্রান্টের উপর স্কুলের পঠন পাঠন থেকে বহু কিছুই নির্ভর করে। অবিলম্বে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।



