Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বরানগরে সোনার দোকানে ডাকাতি, নৃশংস খুন মালিক

স্বর্ণ বিপণির মালিককে খুন করে কয়েক কেজি সোনার গয়না লুট করে পালাল দুষ্কৃতীরা। শনিবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে বরানগরের সোনাপট্টি বলে পরিচিত শম্ভুদাস লেনে।

বরানগরে সোনার দোকানে ডাকাতি, নৃশংস খুন মালিক
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: স্বর্ণ বিপণির মালিককে খুন করে কয়েক কেজি সোনার গয়না লুট করে পালাল দুষ্কৃতীরা। শনিবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে বরানগরের সোনাপট্টি বলে পরিচিত শম্ভুদাস লেনে। বরানগরের ব্যস্ততম এই রাস্তার ২২/১ নম্বর ঠিকানার একটি আবাসনের নীচে রয়েছে ‘সরস্বতী চেন অ্যান্ড অর্নামেন্টস’ দোকানটি। পাইকারি ও খুচরো পর্যায়ে সোনার চেন বিক্রি করা হতো এখানে। এদিন দুপুর তিনটে নাগাদ ওই দোকানে ঢুকে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে মালিক শংকর জানাকে কাবু করে দুষ্কৃতীরা। এরপর ভোঁতা ও ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে বেঁহুশ করা হয় তাঁকে। লুটপাটের সময় দোকানে ভিতরে থাকা সিসি ক্যামেরা বিকল করে এক দুষ্কৃতী। এরপর নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে বেরিয়ে যায় তারা। স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অনুমান, কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের সোনার গয়না লুট করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পরে প্রতিবেশী ব্যবসায়ীরা দোকানে ঢুকে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন শংকরবাবু, তাঁর পা বাঁধা। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক বছর ৬২’র ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পৌঁছে যান বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মাও। খুন-ডাকাতির এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। 

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রেকি চালিয়ে ওই স্বর্ণ বিপণিতে হানা দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এমনকী গয়না কেনার প্রস্তাব নিয়ে শংকরবাবুর সঙ্গে যোগাযোগও করেছিল তারা, এমনটাও অনুমান করছে পুলিশ। তবে কি সেরকমই কোনও ক্রেতার প্রতীক্ষায় ছিলেন শংকরবাবু? তা না হলে, যে দোকান প্রতিদিন বেলা দুটোর সময় বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান তিনি, এদিন বেলা তিনটের সময়ও তা খোলা রেখেছিলেন কেন? উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, ছেলে শান্তনুকে সঙ্গে নিয়ে কারবার সামলাতেন শংকরবাবু। ব্যবসার কাজে শান্তনু দিল্লিতে রয়েছেন। বাবার খুনের খবর পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরছেন। শান্তনুর সঙ্গে কথা বলে ওই প্রশ্নের জবাব পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ৫-৬ জনের ওই দুষ্কৃতী দলের মধ্যে একজনের মুখ ঢাকা ছিল। পুলিশ মনে করছে, দুষ্কৃতীরা সম্ভবত ভিন এলাকার এমনকী ভিন রাজ্যেরও হতে পারে। তবে মুখঢাকা ব্যক্তিটি স্থানীয় এলাকার কোনও ‘টিপার’। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ বুঝেছে, দুষ্কৃতীদের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। শংকরবাবুর প্রতিবেশী কারবারি জয়ন্ত দাস জানিয়েছেন, এদিন দুপুরে ওই দোকানে অপরিচিতদের আনাগোনা নজরে আসে উল্টো দিকের এক সংস্থার কর্মচারীদের। তাঁরা বিষয়টি জানান মালিক লাল্টুকে। এরপর লাল্টুবাবু আর জয়ন্তবাবু ‘সরস্বতী চেন অ্যান্ড অর্নামেন্টস’এ ঢুকে খুন ও লুটপাটের বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পাঠানো হয় পুলিশ ও শংকরবাবুর ছেলেকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ