Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কেন্দ্রের শুল্ক-ধাক্কা, সোনার দাম একদিনে বাড়ল ৮,৬০০

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে সোনা না কেনার আরজি জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, এভাবে সোনার আমদানি কমানো যাবে। ফলে কেন্দ্রের ভাঁড়ার থেকে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমবে।

কেন্দ্রের শুল্ক-ধাক্কা, সোনার দাম একদিনে বাড়ল ৮,৬০০
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে সোনা না কেনার আরজি জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, এভাবে সোনার আমদানি কমানো যাবে। ফলে কেন্দ্রের ভাঁড়ার থেকে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমবে। এই অবস্থায় সোনা কেনায় রাশ টানতে আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৬ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হল। একই হারে আমদানি শুল্ক বসেছে রুপোতেও। শহরের সোনার শোরুমগুলিতে বুধবারই এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বুলিয়ান মার্চেন্টস অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য, মঙ্গলবার ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধতার ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা। বুধবার তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ, একদিনের তফাতে দাম বেড়েছে ৮ হাজার ৬০০ টাকা। বেড়েছে ২২ ক্যারেটের গয়না সোনার দরও। বুধবার এই সোনার ১০ গ্রামের দাম গিয়েছে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৬০০ টাকা। মঙ্গলবার যা ছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা। কলকাতায় কেজি প্রতি খুচরো রুপোর দর ১৭,৫৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩৫০ টাকা।

Advertisement

করোনা পরিস্থিতির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সোনার দাম লাফিয়ে চড়তে শুরু করেছিল। ভূ-রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি সোনার দাম বৃদ্ধিতে আরও ইন্ধন দেয়। ২০২২ সালের জুলাই থেকে দেশে সোনার উপর আমদানি শুল্ক ১০.৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। কিন্তু সোনার দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় ২০২৪ সালে আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৬ শতাংশ করে কেন্দ্র। এর মধ্যে ৫ শতাংশ মূল আমদানি শুল্ক এবং ১ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস। বুধবার যে ১৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে মূল আমদানি শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং সেস ১ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। 
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগররা। ‘স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটি’র কার্যনির্বাহী সভাপতি সমর দে বলেন, ‘স্বর্ণশিল্প মহলের সঙ্গে একবার আলোচনায় বসতে পারত কেন্দ্র। এর ফলে কারিগর ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পাশাপাশি প্যাকেজিং, শোরুমের কর্মীদের কাজও সংকুচিত হবে। আমরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাবি জানিয়ে চিঠি লিখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যে গোল্ড মনিটাইজেশন প্রকল্প চালু করেছে, তা শুধু ব্যাংকগুলিতেই সীমাবন্ধ। সাধারণ মানুষ সেভাবে আগ্রহও দেখায়নি। জুয়েলারদের সঙ্গে নিয়ে যদি এই প্রকল্প চালু হত, আমরা স্কিমটি জনপ্রিয় করতে পারতাম। সরকারের সোনা আমদানি কমত। ক্রেতা বা গৃহস্থের কাছে থাকা সোনা কাজে লাগানো যেত। মন্দিরে জমানো সোনাও এই স্কিমে কাজে লাগানোর আরজি জানিয়েছি আমরা।’ ‘বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক টগরচন্দ্র পোদ্দারের কথায়, ‘সোনার দামবৃদ্ধিতে ক্রেতারা আতঙ্কিত। বাংলায় ৬৫ লক্ষ কারিগর আছেন, যাঁদের মধ্যে অন্তত ৩৫ লক্ষ পরিযায়ী। মুম্বই, দিল্লি বা সুরাতে কাজ করেন। গয়নার চাহিদা তলানিতে এলে তাঁরা কাজ হারিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হবেন। স্থানীয় স্বর্ণকাররাও কাজ হারাবেন। পাইকারি বাজারে কাঁচামাল হিসাবে সোনা পাওয়া কঠিন হবে। তাতে স্মাগলিং বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সমস্যার কথা জানাব।’

সম্পর্কিত সংবাদ