সংবাদদাতা, সিউড়ি: ধনতেরাস উৎসবে সোনা কেনার রেওয়াজ রয়েছে। সম্প্রতি হলুদ ধাতুর দর অনেকেটাই বেড়েছে। তার প্রভাব বাজারে পড়লেও ধনতেরাসে অল্পবিস্তর কেনাকাটার আশা করছেন সিউড়ি শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতিও শুরু করেছেন তাঁরা। দাম বাড়ায় গয়না কেনা কিছুটা কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সোনায় বিনিয়োগ হিসেবে কেনার প্রবণতা অনেকটাই বেড়েছে।
ধনতেরাস বা ধন ত্রয়োদশীর দিনে সোনা বা অন্য কোনও মূল্যবান ধাতু কেনার প্রধান কারণ হল এটিকে সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং ধন-সম্পদের প্রতীক বলে মনে করা হয়। এই দিনে সোনা বা অন্যান্য মূল্যবান ধাতু কিনলে ঘরে লক্ষ্মীলাভ হয়। সারা বছর আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে। এছাড়া ধনতেরাসের দিনে সোনা কেনা মানেই হল নিজের বাড়িতে মা লক্ষ্মীকে স্বাগত জানানো। তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করা। এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে সোনা কিনলে দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় ঘরে ধনসম্পদ বৃদ্ধি পায়। তাই এই বিশেষ দিন সোনা কিংবা কোনও মূল্যবান ধাতু কেনার চল আছে।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে সোনার দাম বেড়েছে হু হু করে। গত সোমবার ১০গ্রাম ২২ ক্যারেট হলমার্কের সোনার দাম ছিল এক লক্ষ ১৭ হাজার ৫০০টাকা। বিক্রেতাদের দাবি, গত এক মাসে প্রতি ১০গ্রাম সোনায় প্রায় ২০ হাজার টাকা দাম বেড়েছে। আবার, এদিন ১০গ্রাম রুপোর দাম ছিল ১৬৫০টাকা। তাও গত কয়েক মাসে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবি, সোনার এভাবে দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের কেনাকাটার পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। তবে ধনতেরাসে সোনা বা রুপো কেনার প্রচলন রয়েছে। ফলে সেইদিনের জন্য মানুষ কেনাকাটা করবেই। তবে ভারী সোনার গয়না না কিনলেও হালকা ওজনের উপর কানের কিংবা অন্য কোনও গয়নার চাহিদা থাকাবে। তবে চাহিদা বেড়েছে রুপোর। ওই বিশেষ দিনে রুপোর সামগ্রীর জন্য অনেকে ইতিমধ্যেই দোকানে অর্ডারও দিয়েছেন।
সিউড়ি শহরের বিক্রেতা গোপাল বসাক জানান, যা দাম তাতে তো সাধারণ মানুষের পক্ষে সোনা কেনা দায় হয়েছে। তবে আশা করছি ধনতেরাসে টুকটাক বিকিকিনি হবে। হালকা ওজনের গয়নার চাহিদা থাকবে। সিউড়ি স্বর্ণশিল্পী সমিতির সম্পাদক রঞ্জিত মান্না বলেন, গত এক বছরে সোনা, রুপোর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। ধনতেরাসে ধাতু কেনার চল আছে। তাই যাঁরা ওইদিন ধাতু কিনে থাকেন তাঁরা কিনবেন। তবে পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। কারণ সবাই হাল্কা ওজনের উপর কিছু একটা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
তবে সোনার দামের সঙ্গে গয়না কেনার প্রবণতা কমলেও বিনিয়োগ হিসেবে কেনাকাটা অনেকটা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক বছরে সোনা অন্যতম সেরা পারফর্মিং সম্পদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্টক, বন্ড এবং অন্যান্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সোনার এই উচ্চ রিটার্ন খুচরো এবং প্রাতিষ্ঠানিক উভয় বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করেছে। তাই একশ্রেণির মানুষের মধ্যে সোনায় ইনভেস্টমেন্ট করার প্রবণতা বেড়েছে। সিউড়ি শহরের এক নামী বিপণীর পক্ষে মোয়াজ আহমেদ বলেন, সোনার দাম বাড়ায় গত চার মাসে গয়নার বিকিকিনি প্রায় ৪৫শতাংশ কমেছে। কিন্তু সোনায় ইনভেস্টমেন্ট অনেকটাই বেড়েছে। অর্থাৎ গয়না না কিনলেও ডিজিটাল গোল্ড কিংবা সলিড গোল্ড কেনার পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। তবে ধনতেরাসে বিকিকিনি কেমন হবে তা বুঝতে পারছি না।