নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কৃষ্ণনগর: ফ্ল্যাট থেকে সোনা কেনার গোছা গোছা রসিদ আগেই মিলেছিল। এবার সল্টলেকের ধৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সব্যসাচী দত্তের বান্ধবীর নদীয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ৩ কেজির বেশি সোনার গয়না। সেই সঙ্গে পুলিশ সল্টলেকের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দু’টি লকার থেকে সব্যসাচীর মজুত করা আরও ৩ কেজি সোনার গয়না এবং ১ কেজি রুপো বাজেয়াপ্ত করেছে। উদ্ধার হওয়া সোনা-রুপোর বর্তমান বাজারদর প্রায় ১০ কোটি টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সব্যসাচীর বান্ধবীর নাম টিনা সাহা ভৌমিক। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেত্রী এবং নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্য। বিধাননগর কমিশনারেটের দাবি, তোলাবাজির টাকাতেই বিপুল পরিমাণ গয়না কিনে মজুত করেছিলেন সব্যসাচী। যদিও বান্ধবীর দাবি, ওই গয়না তাঁর পরিবারের।
তোলাবাজির অভিযোগে গত ৮ জুন রাতে বিধাননগর পুরসভার প্রথম মেয়র সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই পুলিশ তাঁর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেখানে ৭০-৮০ গ্রাম সোনা এবং লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা কেনার রসিদ হাতে পায় পুলিশ। তাদের দাবি, তদন্তের সূত্রেই সামনে আসে সব্যসাচীর বান্ধবী টিনার নাম। নদীয়া জেলার করিমপুর থানার কিশোরপুরে তাঁর পৈতৃক বাড়ি। স্বামীর বাড়ি ওই জেলারই নাজিরপুর থানার বাগাডোবায়। সোমবার গভীর রাতে পুলিশ সব্যসাচীকে নিয়ে প্রথমে টিনার পৈতৃক বাড়িতে যায়। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না মেলে সেখানে। বাগাডোবায় তাঁর স্বামীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কিছু গয়না পাওয়া যায়। বাড়ি থেকে সোনা উদ্ধার প্রসঙ্গে টিনাদেবী বলেন, ‘আমি ভিখিরি ঘরের লোক নই। সব্যসাচী দত্তের টাকায় গয়না কেন হতে যাবে? রাত ২.৩০টায় অভিযান চালিয়ে আমার বাড়ি থেকে যেভাবে জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা বেআইনি। আইনি পথেই লড়ব। ২০১৮ সালের সব্যসাচী দত্তের একটি মামলায় আমাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হয়েছিল। তাই সোমবার কলকাতা এসেছি। তার মধ্যে শুনলাম, আমাদের বাড়িতে রেইড হয়েছে। আমাদের বাড়ির সাতজন মহিলা, বাচ্চাদের অন্নপ্রাশনের গয়না পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে।’ সব্যসাচীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ‘দলীয় সূত্রেই আলাপ। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি দলের কর্মসূচিতে ওঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। কেউ কোথাও অন্যায় করে থাকলে তার দায় আমাদের নয়।’
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, ‘এর আগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বান্ধবীর কথা শুনেছিলাম। আজ আবার একজনের কথা শুনলাম!’ এই বিপুল পরিমাণ সোনা মূলত ২০২১ সালের পরই কেনা হয়েছে এবং তার রসিদ রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।