শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: একসময় তাঁরাই ছিলেন সব্যসাচী দত্তের রাজনৈতিক সফরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকাল থেকে রাত, প্রচার থেকে কর্মসূচি, এমনকি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও সব্যসাচীর সঙ্গে দেখা যেত তাঁদের। ২০২৬ -এর বিধানসভা ভোটে বারাসত কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হওয়ার পর সব্যসাচীকে ঘিরে মহিলাদের যে বলয় তৈরি হয়েছিল, সেই ‘মহিলা ব্রিগেড’ই এখন রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে। নদীয়ায় সব্যসাচীর বান্ধবী হিসাবে পরিচিত এক মহিলার বাড়ি থেকে কয়েক কেজি সোনা উদ্ধারের পর থেকেই ‘মহিলা ব্রিগেড’-এর সেই মুখগুলিই কার্যত অদৃশ্য! জনসমক্ষে কারও দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, একসময় ‘প্রভাবশালী’ সব্যসাচীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ রাখতে তাঁদের মধ্যে অনেকেই তাঁর সঙ্গে ছবি পোস্ট করতেন। এখন তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সেই ছবি মুছে ফেলছেন একে একে। সেরকমই এক মহিলা নেত্রীর কথায়, ‘যা পরিস্থিতি, কী দরকার বিতর্কে জড়িয়ে। ছবিগুলো ডিলিট করে দিলাম।’
সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোট প্রচারে বারাসতে সব্যসাচীর কর্মসূচি মানেই ছিল একঝাঁক মহিলার সক্রিয় উপস্থিতি। প্রচারের গাড়িতে তাঁর পাশে বসা, মঞ্চে উঠে বক্তৃতা, সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া দেওয়া, পাড়ায় পাড়ায় জনসংযোগে অংশ নেওয়া— সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের অন্দরেও তা নিয়ে নানা চর্চা চলেছিল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারসহ অন্যান্য দলীয় কর্মসূচিতে তাঁদের তৎপরতা দেখা যেত। নির্বাচনের সময় তোলা সেই সব ছবি এবং ভিডিয়ো আজও বহু মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। স্থানীয়দের দাবি, সব্যসাচীর সঙ্গে দেখা করতে আসা অনেককেই আগে ওই ‘মহিলা বলয়’-এর মুখোমুখি হতে হত। সব মিলিয়ে সব্যসাচীকে ঘিরে মহিলাদের এই ব্রিগেড ভোট-বজোরে একটি বাড়তি গুরুত্ব আদায় করে নিতে পেরেছিল। সব্যসাচী গ্রেপ্তার হতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সম্প্রতি নদীয়ায় তাঁর ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের পর সেই পরিবর্তন আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় এখন চর্চা, যাঁরা এক সময় সব্যসাচীর সবচেয়ে ‘ঘনিষ্ঠ’ মুখ হিসাবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরা কোথায়? সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পরপর ছবি ‘ডিলিট’ নিয়েও জমে উঠছে ‘চায়ে পে চর্চা’। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন ওই মহিলা ব্রিগেডের সদস্যরা সব্যসাচীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বদলে দূরত্ব প্রমাণ করতে পারলেই স্বস্তি বোধ করছেন। সেই কারণে তাঁদের যেমন আর জনসমক্ষে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবি, ভিডিয়ো সরিয়ে ফেলার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।