সংবাদদাতা, ডোমকল: ওপার বাংলা থেকে চোরাপথে ভারতে পাচার হয়েছিল সোনার বিস্কুট। শরীরে বিস্কুটগুলি লুকিয়ে একজনকে দিতে যাচ্ছিল পাচারকারী। কিন্তু তাল কাটল পুলিসি অভিযানে। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে রানিনগরের ডুবাপাড়ায় হানা দিয়ে ১০টি সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করল রানিনগর থানার পুলিস। বাজেয়াপ্ত সোনার ওজন প্রায় ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম। যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতদের নাম শিবনাথ মণ্ডল ও লালন মণ্ডল। শিবনাথের বাড়ি রানিনগরের রাজানগরে আর লালনের বাড়ি সাগরপাড়ার নতুন বামনাবাদে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে খবর আসে ডুবপাড়ার দিক দিয়ে এক যুবক মোটর সাইকেলে করে ওই সোনা একজনের কাছে পৌঁছে দিতে যেতে পারে! ওই খবর পেয়ে সেখানে হানা দেয় পুলিসের টিম। লুকিয়ে নজরদারি শুরু করে তারা। পুলিস লক্ষ্য করে এক যুবক বাইক নিয়ে সীমান্তের গ্রামের দিক দিয়ে আসছেন। সন্দেহজনক ওই যুবককে দাঁড় করায় পুলিস। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। কথায় অসঙ্গতি মেলায় প্রথমে তার বাইকে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও সেই সময় কিছুই পাননি তাঁরা। এরপরে ওই যুবকের শরীরে তল্লাশি চালানো হয়। তার পোশাকের নীচে লুকোনো দশটি সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়। ধৃতের কাছে ওই সোনার কাগজপত্র ছিল না। জেরার মুখে সোনা পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে নেয় ধৃত শিবনাথ মণ্ডল। সে জানায়, এক বাংলাদেশি তার হাতে ওই সোনা তুলে দিয়েছে। সেই সোনা লালন মণ্ডল নামের অপর একজনের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল তার। সেই স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে পুলিস সাগরপাড়ার নতুন বামনাবাদে হানা দিয়ে লালন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস সূত্রে খবর, ঘটনার সঙ্গে বড় চক্র জড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে তারা। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে রানিনগর থানার পুলিস।
ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, এখনই বলা মুশকিল ধৃতরা ক্যারিয়ার কি না। তবে প্রাথমিকভাবে আমাদের অনুমান, এর সঙ্গে বড় চক্র জড়িয়ে রয়েছে। ওই সোনা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এনে পাচার করা হচ্ছিল। পুরো ঘটনায় আর কে কে জড়িয়ে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।