বাপ্পা রায়, মানবাজার: ৩০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে পুরুলিয়ার মানবাজারের পাথরমহড়ার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। এই পুজোয় দেবীর প্রতিমা থাকে না। পূজিত হয় নবপত্রিকা। জীতাষ্টমীর পরদিন পিতৃপক্ষের নবমী থেকেই পুজোর জন্য ঘৃতপ্রদীপ জ্বালানো হয়। বিজয়া দশমী অবধি সেই প্রদীপ জ্বলে। মানবাজার শহরে প্রায় ১২টি দুর্গাপূজা হয়। যার মধ্যে দুটি মণ্ডপ বাদ দিয়ে বাকি ১০টি পুজো রাজবাড়ির পুজোকে অনুসরণ করে আয়োজিত হয়। সপ্তমীতে পুকুর থেকে দোলা নিয়ে আসার সময় রাজবাড়ির দোলা থাকে সামনে। তারপর একে একে মানবাজারের অন্য পুজো মণ্ডপের দোলা থাকে। রাজবাড়ীর দুর্গাপুজোয় দেবীর প্রতিমা তৈরি হয় না। মণ্ডপের চাকচিক্যও নেই। রাজবাড়িতে নবপত্রিকারূপে দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন। সপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী অবধি পুজোপাঠ সহ নানা আচার-অনুষ্ঠান চলে। রাজপরিবারের প্রবীণ সদস্য দেবাশিস নারায়ণ দেব বলেন, জীতাষ্টমীর রাতে বোধনের অধিবাস হয়। পরদিন পিতৃপক্ষের নবমীতে বোধন পুজো হয়। সেদিন থেকেই পুজোর জন্য ঘৃত প্রদীপ জ্বালানো হয়। সেই প্রদীপ বিজয়া দশমী পর্যন্ত জ্বালানো থাকে। এখানে প্রতিমা থাকে না। নবপত্রিকারূপে মা দুর্গা পূজিতা হন। এই পুজোয় নানা নিয়ম ও রীতি রয়েছে। অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে বলিদানের পর রাজবাড়ির গড়ে তোপ দাগা হয়। সেসময় প্রচুর মানুষ পুজো দেখতে ভিড় জমান। আগে রাজবাড়ির তোপের আওয়াজ ২০-২২কিমি দূর পর্যন্ত পৌঁছত। সেই শব্দ শুনেই মানবাজার শহরের আশপাশের গ্রামেও বলিদান হতো। এখন বিভিন্ন গ্রামে ঘড়ি ধরে বলিদান হলেও মানবাজার শহরের বিভিন্ন পুজোয় রাজবাড়ির তোপধ্বনির পরই বলিদান হয়। রাজপরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁদের পূর্বপুরুষ প্রথমে রাজস্থানের মোহব্বায় গড় নির্মাণ করেছিলেন। এরপর গড় মোহব্বা থেকে বর্ধমানের কোটা মানকর, ক্রোশজুড়ি গয়ে পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার বুধপুরে আসেন। সেখান থেকে মানবাজারে এসে এই পরিবার গড় নির্মাণ করে। সেখানে তৈরি হয় দুর্গামন্দির। তখন থেকেই পাথরমহড়ায় নিয়মিত দুর্গাপুজো চলে আসছে। এখনও রাজবাড়ির সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীর আরাধনা করে আসছেন।



