Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গোয়া-থাইল্যান্ডের ওয়াটার স্পোর্টস সুন্দরবনে? বিশ্ব ব্যাংকের সাহায্যে উন্নয়নের রূপরেখা, বৈঠকে ১২ দপ্তর

জেট স্কিয়িং বা প্যারাসেলিংয়ের মতো জনপ্রিয় ওয়াটার স্পোর্টসের টানে হাজার হাজার মানুষ ফি-বছর পাড়ি দেন সুদূর গোয়া বা থাইল্যান্ডে।

গোয়া-থাইল্যান্ডের ওয়াটার স্পোর্টস সুন্দরবনে? বিশ্ব ব্যাংকের সাহায্যে উন্নয়নের রূপরেখা, বৈঠকে ১২ দপ্তর
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জেট স্কিয়িং বা প্যারাসেলিংয়ের মতো জনপ্রিয় ওয়াটার স্পোর্টসের টানে হাজার হাজার মানুষ ফি-বছর পাড়ি দেন সুদূর গোয়া বা থাইল্যান্ডে। সুনীল জলরাশির উপর তীব্র গতির তুফান তোলার সুযোগ হাতছানি দেয় অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণার্থীকে। এবার কি এমন সুযোগ মিলতে চলেছে ঘরের কাছে সুন্দরবনেই? এমন আশার সঞ্চার হয়েছে কারণ, বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে তাদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্যের বিষয়টি। কারণ, যা-ই হোক না কেন, পরিবেশ প্রসঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। সেই কারণে সুন্দরবনের সমুদ্র সংলগ্ন এলাকাকে ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য বেছে নেওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে দীঘার মতোই বকখালি-ফ্রেজারগঞ্জেও ওয়াটার স্পোর্টস চালুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসনিক মহল। 

Advertisement

গত ২০০ বছর ধরে গঙ্গার গতিপথ ক্রমশ পূর্ব দিকে সরে যাওয়ার ফলে সুন্দরবনের দিকে প্রবাহিত ছোটো ছোটো নদীগুলি গঙ্গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও কৃষির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে সুন্দরবনের জলের নোনা ভাব। তাছা‌ড়া, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সামলে চলেছে সুন্দরবন। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে সুন্দরবনের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রায় ৪১০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য। যদিও বিশ্ব ব্যাংকের এই সহায়তা পেতে কেন্দ্রের ছাড়পত্র প্রয়োজন। তা এখনও পাওয়া যায়নি। তার আগেই মঙ্গলবার ‘সমুদ্র সম্পদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতিসাধন’ (শোর প্রকল্প)-এর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট ১২টি দপ্তরের পদস্থ কর্তা, এলাকার মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়কদের নিয়ে প্রয়োজনীয় বৈঠক সেরে রাখল রাজ্য। সেচদপ্তর হল এই প্রকল্পের নোডাল দপ্তর। তারা ছাড়াও সুন্দরবনের উন্নয়নের স্বার্থে বন, মৎস্য, সুন্দরবন উন্নয়ন, প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, ক্ষুদ্র সেচ, পর্যটন, কৃষি বিপণন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহণ এবং পঞ্চায়েত দপ্তর কী কী কাজ করতে চায়, তা প্রস্তাব আকারে জমা পড়েছে। সেখানেই পর্যটন দপ্তরের প্রস্তাবে সুন্দরবন এলাকায় হোম স্টে, নৌকবিহার, ফুড স্টেশনের মতো পরিষেবা শুরুর পাশাপাশি ওয়াটার স্পোর্টস চালু করার কথা বলা হয়। সূত্রের খবর, সুন্দরবনের মতো এলাকায় পর্যটকদের সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এই প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন বলে বৈঠকে উঠে আসে। তবে জঙ্গলের একেবারে কোর এলাকা থেকে দূরে ওয়াটার স্পোর্টস চালু করতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সুন্দরবনের ১১টি ব্লকের (৪টি উত্তর ২৪ পরগনায় এবং ৭টি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়) ৩৯টি দ্বীপে কার্যকর হবে রাজ্যের প্রস্তাবিত এই ‘শোর’ প্রকল্প। এদিন বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল প্রমুখ। মানসবাবু বলেন, ‘এই আলোচনার ভিত্তিতে বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ