Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

গঙ্গাসাগর জাতীয় মেলা নয় কেন মোদিকে কটাক্ষ পুরীর শঙ্করাচার্যের

গঙ্গাসাগর জাতীয় মেলা নয় কেন মোদিকে কটাক্ষ পুরীর শঙ্করাচার্যের
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গতবার গঙ্গাসাগর এসে রামমন্দির নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেছিলেন পুরীর শঙ্করাচার্য নিশ্চলানন্দ সরস্বতী মহারাজ। চলতি মেলায় গঙ্গাসাগর মেলাকে ইস্যু করে মোদিকেই খোঁচা দিলেন তিনি। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু তৈরি নিয়ে কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ এবং কেন এই মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণা করা হচ্ছে না, তা নিয়েই কেন্দ্রের সমালোচনা করেন শঙ্করাচার্য। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু তৈরি করছে রাজ্য সরকার। এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু কেন্দ্র কোনও সহায়তা করছে না রাজ্যকে। মমতার প্রতি মোদির কোনও স্নেহ নেই।
Advertisement
জাতীয় মেলা ঘোষণার ক্ষেত্রেও কেন কেন্দ্রের এত অনীহা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শঙ্করাচার্য জানান,  কেউ করুক বা না করুক, গঙ্গাসাগরকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবেই ঘোষণা করছি আমি। কারণ এখানে বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পুণ্যার্থীরা আসেন। বিজেপি এখানে সরকার গঠনের অপেক্ষা করছে? তাই কি তারা এটা ঘোষণা করছে না! শঙ্করাচার্যের এমন মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, বিজেপি বরাবরই ধর্মের রাজনীতি করে এসেছে এবং নানাভাবে বঞ্চিত করছে বাংলাকে। ওরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ছাড়া কিছুই করে না।
এদিকে, সোমবার গঙ্গাসাগর মেলায় আগত দুই পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে একজনের দেহ সাগরের ৩ নম্বর বিচে উদ্ধার করে এনডিআরএফ। পুলিস জানিয়েছে, এদিন সকালে ডুব দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজেশ ভড় নামে এক তীর্থযাত্রী। অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে ভাসতে দেখে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা জল থেকে তাঁকে তুলে আনেন। পরে পুলিস এসে তাঁর দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।  চিকিৎসকরা তাঁকে ‘মৃত’ বলেই ঘোষণা করেন। 
সাংবাদিক বৈঠকে অরূপবাবু বলেন, স্নান উপলক্ষ্যে অসংখ্য মানুষ আসছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৫৫ লক্ষ তীর্থযাত্রী স্নান করে ফিরে গিয়েছেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া ড্রেজিং নিয়ে বলেন, এবার নদী থেকে ১০ লক্ষ কিউবিক মিটার পলি মাটি তুলে ফেলা হয়েছে। এর ফলে ভেসেল চলাচল করতে সমস্যা হয়নি। তবে ভাঙন রোধ এবং কপিলমুনির মন্দির বাঁচাতে আগামী দিনে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে। এই বিষয়ে আইআইটি চেন্নাই এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ