সুতপা গুহ, ইটানগর: পাখির কলতান, সবুজে ঘেরা পাহাড়। তার কোলে গোবুক গ্রাম। অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং জেলায় এই গ্রামের উচ্চতা প্রায় ১২০০ মিটার। সারা বছরই এখানে পাহাড়ের গায়ে জড়িয়ে ঘরসংসার করে ঘন মেঘের দল। শীতে বরফ মাখে পাহাড়। এখানে রংবাহারি প্রজাপতির ডানায় যেন শিল্পীর তুলির টানের ক্যানভাস। কংক্রিটের ছিটেফোঁটা নেই কোত্থাও। বহু দূরে দূরে পাহাড়ের গায়ে একটি-দুটি কাঠের বা বাঁশের ঘর। এক সময় শিকার করেই দিন গুজরান করতো এখানকার আদি উপজাতিভূক্ত বাসিন্দারা। সেই পরম্পরা ছেড়ে এখন জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পথে হাঁটছে গোবুক।
Advertisement
শিকার বংশপরম্পরায় এখানকার বাসিন্দাদের সংস্কৃতিরই একটা অংশ। ‘গ্রামের প্রবীণ লোকেরা নামঘরে একত্রিত হন ‘অরণ উৎসবে’। সেখানে আগুন জ্বালিয়ে নাচ গান হয়। প্রবীণ দলপতিরা শিকারিদের মাংস, ভাত থেকে তৈরি সুরা, বিভিন্ন খাবার দেন। সেগুলো খেয়ে আমরা শিকারে যাই। শিকার করে আনা বন্য পশুদের মাংস আমরা প্রবীণদের হাতে তুলে দিই। সেগুলো আমরা খাই না।’ এমনটাই জানিয়েছেন তাগো লিবাং। তিনি গোবুক গ্রামের শমন (পুরোহিত)। গ্রামের প্রবীণ শিকারি তংগাক সিবোহর গলায় স্মৃতিমেদুরতা। তিনি বললেন, ‘আগে আমরা বরফ ঢাকা পাহাড় পেরিয়ে ভাল্লুক-হরিণ শিকার করতাম। এখন আর এসব পাওয়া যায় না। পায়রাও শিকার হতে হতে হতে শেষ হয়ে এসেছে। এখন পাখি ছাড়া বিশেষ কিছু আর দেখা যায় না।’ পশু শিকারের এই প্রবণতায় রাশ টানতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যপ্রাণ শিকারের কুফল সম্পর্কে গ্রামবাসীদের সচেতন করে তোলার প্রয়াস শুরু হয়েছে। এখন গোবুকে কাজ করছে বিভিন্ন বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা। শিকার ছেড়ে কৃষি ও পশুপালন নিয়ে গ্রামবাসীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু সংস্থা। এতে মিলেছে সাফল্যও। গ্রামের ছেলেমেয়েদের অনেকেই এখন শিকারের গুলতি ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে বইখাতা।
রাজধানী ইটানগর থেকে ৩৭৪ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাও। ‘গোবুক- হারমনি ইন দ্য হাইল্যান্ডস’ নামে এই সিনেমা আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল সাসটেনেবিলিটি ফিল্মস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪’-এর জন্য মনোনীত হয়েছে। সিনেমার প্রযোজক জেপুরের গ্রিন হাব। সহায়তায় এপুম সিরাম ও তিতলি ট্রাস্ট। স্ট্যাঞ্জিন তান্ডুপ ও পাউজাতুয়ালা সুয়ান্তের এই সিনেমার হাত ধরে অরুণাচলের এই প্রত্যন্ত গ্রামটি এবার নতুন পরিচয় পেতে চলেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীবনযাত্রার পাশাপাশি জৈব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়।
রাজধানী ইটানগর থেকে ৩৭৪ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাও। ‘গোবুক- হারমনি ইন দ্য হাইল্যান্ডস’ নামে এই সিনেমা আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল সাসটেনেবিলিটি ফিল্মস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪’-এর জন্য মনোনীত হয়েছে। সিনেমার প্রযোজক জেপুরের গ্রিন হাব। সহায়তায় এপুম সিরাম ও তিতলি ট্রাস্ট। স্ট্যাঞ্জিন তান্ডুপ ও পাউজাতুয়ালা সুয়ান্তের এই সিনেমার হাত ধরে অরুণাচলের এই প্রত্যন্ত গ্রামটি এবার নতুন পরিচয় পেতে চলেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীবনযাত্রার পাশাপাশি জৈব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টা তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়।



