Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গুলশানে বাংলাদেশিদের জন্য বেআইনি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ

গুলশানে বাংলাদেশিদের জন্য বেআইনি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আফরোজ ওরফে গুলজারের বিরুদ্ধে ভুয়ো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালানোর অভিযোগ রয়েছে গুলশন কলোনিতে।  সিমবক্স পদ্ধতি ব্যবহার করে চলা এই এক্সচেঞ্জ এখানে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ব্যবহার করত বলে অভিযোগ। তাদের জন্য এই এক্সচেঞ্জ খুলেছিল গুলজার। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। এদিকে বিহারে তল্লাশিতে যাওয়া টিমের সদস্যরা পাপ্পু চৌধুরি গ্যাংয়ের বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে খবর।
Advertisement
অপরদিকে, বারবার বয়ান বদল করে আফরোজ ওরফে গুলজার গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।  প্রথমে সে হামলার দায় .নিজের ঘাড়ে নিলেও, এখন দাবি করেছে, এর পরিকল্পনা গুলশন কলোনিরই এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীর। তার কথামতোই সে কাজ করেছে। গোয়েন্দাদের জেরায় সে জানায়, ওই দুষ্কৃতীর সঙ্গে বিহারের একাধিক গ্যাংস্টারের যোগাযোগ রয়েছে। নিয়মিত যাতায়াতও আছে। বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসা এবং সেখানকার গ্যাংস্টারদের গুলশান কলোনিতে আশ্রয় দেওয়া‌ ওই দুষ্কৃতীর কাজ। পাশাপাশি জমি ও ভেড়ি দখল করত অস্ত্র দেখিয়ে। সম্প্রতি ওই এলাকা তার হাতছাড়া হয়। আফরোজের দাবি, ওই দুষ্কৃতী তাকে বরো চেয়ারম্যানের উপর হামলার পরিকল্পনার কথা জানালে, সে রাজি হয়। যদিও যার কথা গুলজার বলছে, তার এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ এখনও খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা। যদিও গোটা বিষয়টি যাচাই করে দেখছেন তাঁরা। একইসঙ্গে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, শুধু জমি বা ভেড়ি দখল নয়, এলাকার দখল রেখে কারা তোলাবাজি চালাবে, তাই নিয়ে গোলমাল চলছিল অনেকদিন ধরেই। এক্ষেত্রে একাধিক গ্রুপের নাম উঠে আসছে। 
তদন্তে উঠে আসছে আফরোজ গুলশান কলোনিতে একসময়ে ‘কল সেন্টার’ খুলেছিল। সেখান থেকে প্রতারণা চলত বিভিন্ন জায়গায়। প্রতারণা করে আসা অর্থ সে জমি –ভেড়ি কেনার কাজে লাগায়। এই টাকায় কেনা হয় আগ্নেয়াস্ত্র। তার মদতে আরও একাধিক কল সেন্টার চলছিল এই এলাকায়।  ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বাইরের রাজ্যের লোকজন এগুলি চালাত বলে অভিযোগ। দুবাইতে থাকাকালীন ভুয়ো টেলিফোন এক্সচেঞ্জের বিষয়ে জেনেছিল আফরোজ পুলিসকে জানিয়েছে। সেখান থেকে ফিরে নিজেই ফেঁদে বসে এই ব্যবসা। সিমবক্স পদ্ধতির মাধ্যমে ভুয়ো টেলিফোন এক্সচেঞ্জ গড়তে তাকে সাহায্য করে ভিন রাজ্যের এক বাসিন্দা। এই এক্সচেঞ্জ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে আসা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গরা যোগাযোগ রাখত। এই এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করে বাংলাদেশে একাধিক কল গিয়েছে। এরফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী দলে থাকা কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যের এই এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিস। তবে ঘটনায় জড়িত তিন অভিযুক্তদের খোঁজে বিহারে তল্লাশি চালালেও কাউকেই ধরা যায়নি। পাপ্পু চৌধুরি গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে বিহারে কারা কারা কাজ করছে, তার তালিকা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিসের কাছ থেকে নিয়েছেন তদন্তকারীরা। তার ভিত্তিতে কয়েকজনকে জেরা করে পলাতকরা কোথায় লুকিয়ে থাকতে পারে সেটি জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
সম্পর্কিত সংবাদ