Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোয়ালপোখরের ছায়া ডোমকলে, আঙুল কাটল পুলিসের পালাল দুষ্কৃতী, ধৃত ৪

গোয়ালপোখরের ছায়া ডোমকলে, আঙুল কাটল পুলিসের পালাল দুষ্কৃতী, ধৃত ৪
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল : গোয়ালপোখরের পর এবার ডোমকল। পুলিসি হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে ছিনতাই করে পালাল বাড়ির লোকেরা। রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় পুলিসের গাড়ির চালকের গলায় হাঁসুয়া ধরে, তদন্তকারী আধিকারিকের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে অভিযুক্তকে নিয়ে চম্পট দিল তারা। ডোমকলের রায়পুরের আলীনগরে ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। বৃহস্পতিবারও ঘটনাটিকে ঘিরে দিনভর উত্তাল ছিল গোটা এলাকা। রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মিনা বিবি সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, ‘বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে  চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ 
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে আলীনগরের একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। তদন্তে নেমে মঙ্গলবার  আলীনগরের রানা শেখ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে ডোমকল থানার পুলিস। আদালতের নির্দেশে তার পুলিসি হেফাজতও হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে পুলিস চুরি যাওয়া টাকা ও সোনা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। পুলিসের দাবি, বুধবার রাতে ওই অভিযুক্ত জানায়, তার বাড়িতে একটি জায়গায় চুরির টাকাপয়সা লুকনো রয়েছে। কালক্ষেপ না করে রানাকে নিয়ে ওই এলাকায় রওনা দেয় কেসের তদন্তকারী অফিসার সহ পুলিসের একটি টিম। সেখানে পৌঁছতেই পুলিসকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে রানার বাড়ির লোকেরা। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে স্লোগানও ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ছিলেন অভিযুক্তের আত্মীয় তথা রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান মিনা বিবি, তাঁর স্বামী হাফিজুল শেখ। পুলিসের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সকলেই। তাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সুযোগে অভিযুক্ত রানাকে ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বাড়ির লোকেরা। বাধা দিতে গেলে ফিল্মি কায়দায় পুলিসের গাড়ির চালকের গলায় হাঁসুয়া ধরে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা। চালককে বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে হাতের আঙুলের একটি অংশ কেটে যায় তদন্তকারী অফিসারের। আচমকা এই হামলায় খানিক হকচকিয়ে যায় পুলিস।  আর সেই সুযোগে রানাকে নিয়ে চম্পট দেয় প্রাক্তন প্রধানের স্বামী। 
খবর পেয়েই ডোমকল থানা থেকে বিশাল ফোর্স পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। শুরু করে ব্যাপক ধরপাকড়। রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মিনা বিবি, তাঁর ছেলে সুরোজ শেখ, মিনার ভাসুরের ছেলে মফিজুল শেখ ও রানার স্ত্রী বৈশাখী বিবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। যদিও, পাল্টা পুলিসের বিরুদ্ধেই একাধিক বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে সরব হয়েছে ধৃতদের বাড়ির লোকজন। 
মিনার এক জা তাহমিনা বিবি বলেন, ‘বাইরে ওই সব গন্ডগোল চলছিল । আমরা বেরোইনি। আমার স্বামী কেরলে থাকেন। অথচ, পুলিস আমাদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে। আমাদের বাইকটিও নিয়ে গিয়েছে।’ মিনাদেবীর মেয়ে হাফিজা খাতুন বলেন, ‘আমরা বাড়িতে ছিলাম। আমার মা- বাবা কেউ ঝামেলার মধ্যে যায়নি। অথচ, পুলিস এসে আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। আমার মাকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের গালিগালাজ করেছে। আমার বাবা ভয়ে এলাকা ছাড়া।’ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, রানা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় চুরির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও এলাকায় ছাগল চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল রানা। ওই চুরির ঘটনায় তদন্তে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়েই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
(মিনা বিবির বাড়িতে ভাংচুর। -নিজস্ব  চিত্র)
সম্পর্কিত সংবাদ