নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সত্তর বছরের বৃদ্ধ পেলেন অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা। মহিষাদল ব্লকের কিসমত নাইকুণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের তেরপেখ্যা গ্রামের ঘটনা। ওই গ্রামের ৭০বছরের বৃদ্ধ সুজিত চক্রবর্তী মে মাসের বার্ধক্য ভাতার টাকা ঢুকেছে কি না জানতে শুক্রবার ব্যাংকে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে চার হাজার টাকা ঢুকেছে। পাসবই প্রিন্ট করার পর দেখতে পান, গত ৬জুন অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার এবং বার্ধক্য ভাতার এক হাজার টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে গিয়েছে। ব্যাংক কর্মীরাও ওই ঘটনায় হতবাক। সুজিতবাবু নিজেও এনিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। তিনি বলেন, বিগত সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা লিস্ট ঠিকঠাক করতে পারেনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য থেকেই জানতে পারছি। তাহলে এই সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার লিস্ট করতে গিয়ে এমন ভুল করছে কেন? সোমবার আমি বিডিও অফিসে গিয়ে ওই তিন হাজার টাকা ফেরত দিতে চাই বলে আবেদনপত্র জমা করেছি।
সুজিতবাবু গত ১৫-২০বছর ধরে গান, বাজনার জগৎ নিয়ে ব্যস্ত। আগে ঠিকাদারি করতেন। তিনি একজন ওল্ডএজ পেনশন প্রাপক। নিজের ভাইপোর বাড়িতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিএসপি অফিস কাউন্টার আছে। বার্ধক্য ভাতার টাকা ঢুকেছে কি না শুক্রবার পাসবই নিয়ে যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, একসঙ্গে চার হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে। যদিও সেখান থেকে তাঁকে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি তিন হাজার টাকা আটকে রাখা হয়। সুজিতবাবুও জানান, তিনি ওই টাকা নেবেন না। কারণ, এটা তাঁর প্রাপ্য নয়। তিনি সরকারের ঘরেই ফেরত দেবেন।
মহিষাদলে কেন বার বার অযোগ্যদের কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা চলে যাচ্ছে? গত ৩জুন ওই ব্লকের কিসমত নাইকুণ্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘাগরা গ্রামের ১৮বছর বয়সি সৃজনী দাসের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে যায়। সৃজনী এবার উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছেন। বয়স ১৮বছর। তিনি কোনো অবস্থায় অন্নপূর্ণার উপভোক্তা নন। তিনি ফর্ম পূরণও করেননি। তারপরেও তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছিল।
একইভাবে ৩জুন মহিষাদলের চাঁপি গ্রামের বাবুলাল সওদাগর নামে পুরুষ মানুষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০টাকা ঢুকে গিয়েছিল। অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের জন্য প্রকল্প। ২৫থেকে ৬০বছর বয়স পর্যন্ত মহিলারা এই সুবিধা পাবেন। অথচ, সেই স্কিমে আবেদন না করা ছাত্রী, পুরুষদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাচ্ছে। কীভাবে এটা হচ্ছে? এপ্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) প্রভাত চট্টোপাধ্যায় বলেন, মহিষাদলের ওই ঘটনায় আমরা তদন্ত করছি। কীভাবে এমনটা হল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আধার কার্ড লিঙ্ক করার সময় ত্রুটি থেকেই এই ঘটনা ঘটছে। এপর্যন্ত তিনটি ঘটনা সামনে এসেছে। সকলেই টাকা ফেরত দেওয়ার আবেদন করেছেন।