Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গুলি বিক্রির অবৈধ কারবার, জীবনতলা থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করল এসটিএফ  

গুলি বিক্রির অবৈধ কারবার, জীবনতলা থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করল এসটিএফ
 
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান থেকে অপরাধীদের হাতে যাচ্ছে কার্তুজ। সেই কার্তুজ ব্যবহৃত হচ্ছে শ্যুট আউটের একাধিক ঘটনায়। অপরাধীদের কাছে গুলি বিক্রির তেমনই এক চক্রের হদিশ পেল বেঙ্গল এসটিএফ। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। এদের মধ্যে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি বন্দুকের দোকানের কর্মী। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭.৬৫ বোরের ১৯০টি কার্তুজ, একটি ডাবল ব্যারেল গান এবং ৯টি ১২ বোরের কার্তুজ। 
Advertisement
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শ্যুট আউটের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি হয়েছে একাধিক। এসব ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের কার্তুজ কোথা থেকে আসছে, খোঁজখবর শুরু করে এসটিএফ। দেখা যায়, গুলির গায়ে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির ছাপ রয়েছে। সরকারি গুলি কীভাবে বাইরে এল, তা নিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান থেকেই তা দুষ্কৃতীদের হাতে যাচ্ছে। আরও জানা যায়, মণিপুর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের জাল লাইসেন্স নিয়ে এসে এখান থেকে কেনা হচ্ছে কার্তুজ। নিয়মিত চলছে এই প্রক্রিয়া। এরপর তদন্তকারীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বেশি মাত্রায় কার্তুজ কিনছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার তিন ব্যক্তি। তাদের এত কার্তুজ লাগছে কোথায় বা কে নিচ্ছে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এদের গুলি বিক্রির কারবার রয়েছে। তারাই কার্তুজ বিক্রি করছে অপরাধীদের। 
‘গুলি কিনতে চাই’ টোপ দিয়ে তাদের ফোন করে এসটিএফ। দরদামে পোষানোর পর ‘ক্রেতা’কে জীবনতলায় আসতে বলা হয়। এসটিএফের একটি দল বাড়ির ভিতর ঢোকে। অন্য টিম বাইরে অপেক্ষা করছিল। অভিযুক্তরা কার্তুজ বের করতেই তদন্তকারীরা স্বমূর্তি ধারণ করেন। অন্য টিমের সদস্যরাও ভিতরে চলে আসে। হাতেনাতে ধরা হয় আসিফ ইকবাল গাজী, হাজী রশিদ মোল্লা, আব্দুল সেলিম গাজী ও জয়ন্ত দত্তকে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, জয়ন্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি বন্দুক দোকানের কর্মী। সে কার্তুজ সরবরাহ করত এই তিনজনকে। ভুয়ো আর্মস লাইসেন্সের বিনিময়ে এই কার্তুজ ইস্যু হতো। এই কার্তুজ দুই ২৪ পরগনা ও কলকাতার বিভিন্ন দুষ্কৃতীদের কাছে যেত। জয়ন্ত অনেকদিন ধরে তাদের কার্তুজ বিক্রি করছে। দোকানে অস্ত্র কেনার সূত্রেই এই তিনজনের সঙ্গে জয়ন্তর আলাপ-পরিচয়। গুলি পিছু মোটা কমিশন পেত সে। কারা কারা এই গুলি নিত, ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সেই সঙ্গে জয়ন্ত যে দোকানের কর্মী, সেখান থেকে কাদের গুলি বিক্রি করা হয়েছে, তার রেজিস্টারও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ