Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

গাজিপুর যেন দুর্গ, রাহুলকে সম্ভলে যেতেই দিল না যোগীরাজ্যের পুলিস

গাজিপুর যেন দুর্গ, রাহুলকে সম্ভলে যেতেই দিল না যোগীরাজ্যের পুলিস
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
গাজিয়াবাদ: পুলিস-জনতা সংঘর্ষের পর কেমন আছে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে যেতে চেয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সঙ্গে ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। কিন্তু বুধবার সম্ভলে যাওয়ার আগেই তাঁদের গাজিপুরে আটকে দিল যোগীরাজ্যের পুলিস। দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশ সীমানায় প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের যাত্রা আটকাতে গাজিপুর সংলগ্ন এলাকায় বসানো হয় ব্যারিকেড। ছিল কড়া প্রহরা। যেন দুর্গ হয়ে উঠেছিল গাজিপুর। সেখানে বাধা পেয়ে পুলিসকর্তাদের রাহুল জানান, প্রয়োজনে তিনি একা সম্ভলে যেতে রাজি। কিন্তু তাতেও অনুমতি মেলেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁরা দিল্লি ফিরে আসতে বাধ্য হন। আর এরপরেই যোগী প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা হিসেবে সম্ভলে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁর অধিকার রয়েছে বলে দাবি রাহুলের। এদিন গাজিপুর সীমানায় হাতে সংবিধান নিয়ে রাহুল বলেন. ‘আমরা সম্ভল গিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম সেখানে কী হয়েছে। সম্ভলের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমার সেই অধিকার রয়েছে। আমি একাও যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনও কিছুতেই ওরা রাজি হয়নি।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘সংবিধানকে শেষ করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু আমাদের লড়াই জারি থাকবে।’
Advertisement
রাহুলদের সম্ভল যাত্রা আটকাতে সকাল থেকেই দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রেসওয়ে ব্যারিকেড বসিয়ে দিয়েছিল পুলিস। সব গাড়িকে পরীক্ষা করে দেখা হয়। যার জেরে ব্যস্ত এক্সপ্রেসওয়ের দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশগামী লেনে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। উল্টোদিকের লেনেও গাড়ির গতি ছিল শ্লথ। এর মধ্যেই রাহুলকে পুলিস বাধা দিতেই কংগ্রেসকর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। 
মুঘল আমলের শাহি জামা মসজিদে সমীক্ষা ঘিরে পুলিস ও জনতার সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। তার জেরে এখনও সম্ভলে থমথমে পরিস্থিতি। সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করে রাজ্য সরকার। আগামী রবিবার পর্যন্ত সেখানে ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। এর আগে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধি দলকেও আটকে দেওয়া হয়। এদিন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় কংগ্রেসের পরিষদীয় নেত্রী আরাধনা মিশ্র মোনা জানিয়েছেন, তাঁকে লখনউয়ের বাড়িতে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখে যোগী সরকার। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার গুন্ডামি ও নৈরাজ্য শুরু করেছে। রাহুলকে বাধা দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএস সংবিধানকে কুচি কুচি করে ছিঁড়ে ফেলতে চাইছে, তাই রাহুলকে সম্ভলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
যদিও বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘নাটক করার’ অভিযোগ তুলেছেন উত্তরপ্রদেশের দুই উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য্য ও ব্রজেশ পাঠক। মৌর্য্যের অভিযোগ, মুসলিম ভোট পাওয়ার লোভেই সম্ভল নিয়ে রাজনীতি করছেন অখিলেশ ও রাহুল। 
সম্পর্কিত সংবাদ