সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: গাঁজা চাষ অতীত। মাথাভাঙা মহকুমার নদী তীরবর্তী খাসজমিতে ব্যাপক আফিম চাষ চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকশো বিঘা আফিম খেত নষ্ট করেছে পুলিস। তারপরও চর এলাকার দূরবর্তী জায়গায় ভুট্টা চাষের আড়ালে আফিম চাষ করছে কারবারিরা। রীতিমতো কয়েকটি এলাকায় ড্রোন নামিয়ে এসব নজরে পড়েছে পুলিসের। আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কীটনাশক স্প্রে করে খেত নষ্ট করা হয়েছে। তবে জেলাজুড়ে আফিম চাষের বাড়বাড়ন্তে চিন্তায় পড়েছেন পুলিস কর্তারা। পুলিস জানিয়েছে, ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে খেত নষ্ট করা চলছে। কারা এসব কাজ করছে তাদের নজরে রাখা হচ্ছে।গত বছর মাথাভাঙা-১ ব্লকের হাজরাহাট-১ গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার মানসাই নদীর চর এলাকায় গাঁজা চাষের সঙ্গে আফিম চাষ হয়েছিল। কিন্তু, এবছর গাঁজার চেয়ে কয়েকগুন বেশি জমিতে আফিম চাষ হয়েছে। মাথাভাঙা-২ ব্লকের নিশিগঞ্জের মাঘপালা, কোচবিহার সদরের চান্দামারি, শীতলকুচি এলাকার কিছু অংশে এবছরও গাঁজা চাষ হয়েছে। কিন্তু মাথাভাঙা-২ ব্লকের লতাপোতা, ঘোকসাডাঙা, প্রেমেরডাঙা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক পরিমানে আফিমের চাষ করেছেন কিছু বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে খবর, আফিম খেত আড়াল করতে চারদিকে ভুট্টা লাগানো হয়। গাঁজা খেত দূর থেকে বোঝা গেলেও আফিম ও ভুট্টা একসঙ্গে থাকায় তা দূর থেকে বোঝা যাবে না। চাষের পাশাপাশি আফিম পাচারও বেড়েছে। আফিমের নেশায় আশক্ত হয়ে পড়েছে নতুন প্রজন্মের একটি অংশ। ফলে গাঁজা চাষের চেয়ে আফিমের দিকে ঝুকেছেন কারবারিরা একইসঙ্গে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, আফিম চাষ বেশি লাভজনক বুঝেই এতে স্থানীয়দের একটি অংশের ঝোঁক বেড়েছে। এব্যাপারে মাথাভাঙার মহকুমা পুলিস আধিকারিক সমরেন হালদার বলেন, এবছর তুলনামূলকভাবে আফিম চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরাও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে জেলা পুলিসও আমাদের সহায়তা করছে। ইতিমধ্যে কয়েকশো বিঘা জমির আফিম খেত নষ্ট করা হয়েছে। ধারাবাহিক অভিযান চলেছে।



