নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ক্লাবের উদ্যোগে রক্তদান শিবির। যদিও এই শিবিরের আহ্বায়ক ছিলেন বিজেপির দমদম ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি থেকে রাজ্য সভাপতির ছবি লাগানো হয়েছিল। মঞ্চ থেকে মাঝেমধ্যেই স্লোগান উঠছিল, ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’। প্রদীপ জ্বালিয়ে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি। এই রক্তদান শিবিরে বুক ফুলিয়ে হাজির কামারহাটির ত্রাস জয়ন্ত সিংয়ের ডান হাত বলে পরিচিত ‘কুখ্যাত’ সুশোভন সরখেল। শুধু তাই নয়, মঞ্চ আলো করে বসেও ছিলেন তিনি। তাঁকে বক্তব্য রাখতেও দেখা গিয়েছে। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কাজিয়া চরমে উঠেছে।
গত ২৮ জুলাই দমদমের হনুমান মন্দির লাগোয়া অনুষ্ঠান বাড়ি ‘পুরাঙ্গনে’ রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই শিবিরের আয়োজক ছিল ঘোষপাড়া অধিবাসীবৃন্দ সাংস্কৃতিক মঞ্চ। সহযোগিতায় ছিল খামখেয়ালি সংঘ ও আমরা সবাই ক্লাব। সমগ্র অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন বিজেপির দমদম ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক ভবতারণ ঘোষ। বিজেপি সূত্রের খবর, এই ভবতারণবাবু বিধায়ক অরিজিৎ বক্সির ঘনিষ্ঠ। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে গত কয়েক মাসে। রক্তদান শিবিরের নাম করে বহু জায়গা থেকে টাকা তোলার অভিযোগ করছেন খোদ বিজেপি কর্মীরাই। সেই অনুষ্ঠানে সুশোভন সরখেলকে আনা হয়েছিল ক্ষমতা দেখাতে, নাকি নতুন সিন্ডিকেট তৈরি করতে, তা নিয়ে গেরুয়া শিবির দ্বিধাবিভক্ত। মণ্ডল সভাপতি অমিতাভ সমাজপতি নাগেরবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, কারা ওই সমাজবিরোধীকে ডেকে এনেছে, তা তদন্ত করে বের করুক পুলিশ।
ভবতারণ ঘোষ বলেন, ক্লাবের অনুষ্ঠান। আমাকে আহ্বায়ক করা হয়েছিল। আমি ওই ব্যক্তিকে চিনি না। কে ডেকেছে, তাও জানি না। মঞ্চে যে কেউ উঠলে সৌজন্য বিনিময় হয়। হইচই হওয়ার পর আমি বিষয়টি জেনেছি। বিধায়ক অরিজিৎ বক্সিকে ফোন করলে তিনি বলেন, দুষ্কৃতীদের বরদাস্ত নয়। মণ্ডল সভাপতিকে বলেছি থানায় বিষয়টি জানাতে। তারা তদন্ত করে দেখুক। বিজেপির জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ক্লাবের অনুষ্ঠানে কেন বিজেপির কেউ আহ্বায়ক হবেন? কেন সেখানে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ দলীয় নেতৃত্বের ছবি থাকবে? দল সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেবে।