Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের জিআই স্বীকৃতি বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়াবে

কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মাটির পুতুল জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর আশার আলো দেখছেন কৃষ্ণনগরের শিল্পীরা

কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের জিআই স্বীকৃতি বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়াবে
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মাটির পুতুল জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর আশার আলো দেখছেন কৃষ্ণনগরের শিল্পীরা। তাঁদের বিশ্বাস, এই স্বীকৃতি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পের মর্যাদাকে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত করবে তাই নায়, বিশ্ববাজারে এর চাহিদাও বৃদ্ধি করবে। রপ্তানি এবং বিপণনের নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।

Advertisement

জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল নিয়ে মানুষের আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বহু মানুষ কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকেই শিল্পীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে পুতুল সংগ্রহের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা শিল্পীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বেশিরভাগ মৃৎশিল্পীদের কথায়, এতদিন কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের খ্যাতি থাকলেও জিআই স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর স্বতন্ত্র পরিচয় সুদৃঢ় হয়েছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে এই শিল্পকে আরও সহজে তুলে ধরা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ বাড়বে, পাশাপাশি নকল পণ্যের হাত থেকেও ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প কিছুটা সুরক্ষা পাবে।তারা আরও বলেন, বর্তমানে আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা, অনলাইন মার্কেটিং, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং সরকারি সহায়তা বাড়ানো গেলে কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পেশায় আগ্রহী হবেন, যা এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ভবিষ্যতের জন্য আরও সুরক্ষিত করবে।
তবে শিল্পীদের দীর্ঘদিনের দাবি, কৃষ্ণনগরে একটি আধুনিক আর্ট কলেজ এবং একটি মৃৎশিল্পের মিউজিয়াম গড়ে তোলা হোক। তাঁদের মতে, আর্ট কলেজ হলে নতুন প্রজন্ম প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের মিউজিয়াম তৈরি হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আকর্ষিত হবে। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প বিশ্ব বাজারে আরও পরিচিত হবে। প্রবীণ মৃৎশিল্পী গীতা পাল বলেন, জিআই স্বীকৃতি আমাদের কাছে শুধু একটি সম্মান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও নতুন বার্তা যে এই শিল্পেও নিজেদের ভবিষ্যৎ মজবুত করা যেতে পারে। এখন আমাদের আরও ভালো কাজ করতে হবে। সরকার যদি বিপণন, প্রশিক্ষণ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে, তাহলে এই শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী সুবীর পাল বলেন, এখন আমাদের গর্বের সময়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিল। আমাদের আরও উন্নতমানের পুতুল তৈরি করতে হবে। যাতে সেই পুতুল খুব সহজেই বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে 
পারে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ