Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘর-বাড়ি ধূলিসাৎ হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে বাসিন্দাদের, রেজিনগরে নদীরপাড়ের মাটি চুরি

ঘর-বাড়ি ধূলিসাৎ হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে বাসিন্দাদের, রেজিনগরে নদীরপাড়ের মাটি চুরি
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। নদীর বাঁধ কেটে মাটি পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। রেজিনগরের মাঙ্গনপাড়া গ্রামে গঙ্গার বাঁধের পাশ থেকে লাগাতার মাটি কাটা চলছে। রাত গভীর হলেই জেসিবি দিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়। ভোর পর্যন্ত চলছে মাটি কাটা। সকালের আলো ফুটলেই সেই মাটি ট্রাক্টর করে স্থানীয় ভাটায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বারবার অভিযোগ করেও মাটি কাটা বন্ধ করা যায়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। লাগাতার মাটি কাটার ফলে, নদী লাগোয়া বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষার সময় নদীর জলের স্ফীতি রামপাড়া-১ গ্রামকে ভাসিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। 
Advertisement
রামপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্বদিকে বাঁধ বরাবর এক কিলোমিটার যাওয়ার পরেই কানাপুকুর মাঠ। সেখান থেকে বাঁধের নীচ বরাবর মাটি কাটা চলছে। গ্রামবাসীরা বেশ কয়েকবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় প্রশাসন থেকে থানার পুলিসকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। গ্রামবাসীরা বলেন, প্রতিবার ভরা বর্ষায় গঙ্গার জল বাড়ে। বাঁধের যে অংশ নদীর জলের চাপ ধরে রাখে, সেই জায়গার নীচের দিক থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। এখানে দু’টি বাঁধ আছে। সেচদপ্তরের বড় বাঁধটিকে বাঁচানোর জন্য এপাশে পঞ্চায়েতের তরফে আরও একটি ছোট বাঁধ দেওয়া হয়। এখন যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, তাতে দু’টি বাঁধই দুর্বল হয়ে পড়ছে। 
এক গ্রামবাসী বলেন, পুলিস ও প্রশাসনকে জানানোর পর সাময়িক কাজ হয়েছিল। কিন্তু, এখন প্রকাশ্যেই মাটি কাটা হলেও সবাই উদাসীন। আমরা প্রতিবাদ করলে দেখেছি, পুলিসের গাড়ি এসে দাঁড়িয়ে যায়। তাদের সামনে দিয়েই ট্রলি করে মাটি পাচার হয়। রামপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে ২০০ মিটার দূরে মাটি কাটা হলেও কারও কোনও হেলদোল নেই। স্থানীয় থানার আধিকারিকের প্রশ্রয়ে এসব হচ্ছে। অপর এক গ্রামবাসী বলেন, বাঁধের নীচ থেকে ১৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিচ্ছে মাফিয়ারা। এর আগে একবার প্রতিবাদ করায় মাটি কাটা বন্ধ ছিল। আবার মাটি কাটা শুরু হয়েছে। মাস খানেক ধরে জেসিবি লাগিয়ে মাটি কাটছে। এখানে দু’টি ভাটা আছে। সেখানে মাটি যাচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান থেকে মহকুমা শাসককে জানানো হয়েছে। পুলিস এখানে অভিযান চালাতে পারে না। যে দু’টি ভাটায় মাটি কেটে পাঠানো হচ্ছে, সেখান দিয়ে পুলিসের গাড়ি যায়। স্থানীয় বিধায়ক প্রতিনিধি তথা তৃণমূল নেতা জামিল চৌধুরী বলেন, নিয়মিতভাবে ভোর ও রাতের দিকে মাটি কাটা হচ্ছে। চার-পাঁচটা জেসিবি নামিয়ে নিয়মিত ২৫-৩০টি ট্রাক্টরে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এখন নদীতে জল কম থাকায় মাটি পাচার বেড়েছে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা হবে। বহরমপুরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, ওই জায়গায় মাটি কাটা নিয়ে আগে একটা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম। তারপর আমরা সমস্ত দপ্তরকে জানিয়ে, ওখানে অভিযান চালানো হয়। তারপর থেকে মাটি কাটা বন্ধ ছিল। আবার যদি মাটি কাটা শুরু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ