Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ঘণ্টায় করদাতাদের দেড় কোটি জলে, দুই ধনকুবেরকে নিয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধে স্তব্ধ সংসদ

ঘণ্টায় করদাতাদের দেড় কোটি জলে, দুই ধনকুবেরকে নিয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধে স্তব্ধ সংসদ
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়!’ ঠিক রাজা নয়, লড়াই এবার দুই ধনকুবেরকে নিয়ে। একজন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি। অন্যজন মার্কিন বিজনেস টাইকুন জর্জ সোরোস। এই দু’জনকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র টানাপোড়েন শাসক মোদি সরকার ও বিরোধী কংগ্রেসের। তার জেরেই কার্যত পণ্ড হতে বসেছে সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশন। প্রত্যেক দিনই দেশের জনপ্রতিনিধিরা আসছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অল্পক্ষণের মধ্যেই মুলতুবি হয়ে যাচ্ছে লোকসভা ও রাজ্যসভা। সংসদ অধিবেশন চালাতে আম আদমির করের টাকা জলের মতো ব্যয় হয়। সেখানে কাজ না হওয়ার মানে জলে যাচ্ছে করদাতাদের কোটি কোটি টাকা। সরকারি অর্থ অপচয়ের সেই হিসেবও চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার মতো— প্রতি মিনিটে আড়াই লক্ষ টাকা! অর্থাৎ ঘণ্টায় দেড় কোটি টাকা নষ্ট। ইতিমধ্যেই অপচয়ের অঙ্ক ১০০ কোটির ঘরে পৌঁছে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। হাতে গোনা আর কয়েকদিনই বাকি রয়েছে অধিবেশনের। তার আগে এই পরিসংখ্যান গণতন্ত্রের মন্দিরের মর্যাদার পক্ষে মোটেই উত্তম বিজ্ঞাপন নয়।
Advertisement
স্বাধীনতার পর থেকে বছরে গড়ে ১৩৫ দিন করে চলত সংসদের অধিবেশন। মোদি জমানায় তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০১৯-২৪ সালের হিসেবে বছরে গড়ে মাত্র ৫৫ দিন করে বসেছে অধিবেশন। সাধারণত এর খেসারত দিতে হয় আম আদমিকেই। মূল্যবৃদ্ধির রক্তচক্ষুতে তারা বিপর্যস্ত। কর্মসংস্থান নেই। এই সব বিষয়ে সুরাহার জন্য মানুষ তাকিয়ে থাকে সংসদের দিকেই। কিন্তু জনতার জ্বলন্ত ইস্যুগুলি ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে দুই ধনকুবেরকে নিয়ে দ্বৈরথে। এভাবে করদাতাদের কোটি কোটি টাকা জলাঞ্জলি দিয়ে সংসদের সময় বরবাদ করার টক্কর কতটা যুক্তিযুক্ত? আর এ তো প্রথমবার নয়! একটি রিপোর্টে অনুযায়ী, সংসদে অচলাবস্থার কারণে ২০২১ সালে করদাতাদের আনুমানিক ১৩৩ কোটি টাকা জলে গিয়েছিল।
ঘণ্টায় দেড় কোটি টাকা নষ্টের এই হিসেব এক দশকের বেশি সময় পুরনো। ২০১২ সালের। সেই সময় বিরোধী আসন আলো করে রয়েছে বিজেপি। মূল্যবৃদ্ধি থেকে দুর্নীতি—প্রতিদিনই কোনও না কোনও ইস্যুতে অচল করা হচ্ছে সংসদ। তৎকালীন ইউপিএ সরকারের সংসদ বিষয়কমন্ত্রী পবন বনসল পেশ করেছিলেন অধিবেশন অচলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পরিসংখ্যান। পরের ১৪ বছরে অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি আমূল বদলে গিয়েছে। নোটবাতিল-জিএসটি হয়েছে। ডলারের দাম ২০১২ সালে ৬০ টাকার আশপাশে ছিল। তা এখন ৮৫ টাকার কাছাকাছি। নতুন সংসদ ভবন হয়েছে। ফলে এখন অধিবেশন অচলে ঘণ্টায় দেড় কোটি নয়, তার দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি সরকারি অর্থ জলে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের অভিমত, শুধু টাকা অপচয় নয়, সময়ের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়া শুধুমাত্র সংখ্যার জোরে বিভিন্ন বিল পাশ করিয়ে নিচ্ছে সরকার। সেইসঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের খামতি তুলে ধরার সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে বিরোধীদের। তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বেশ কিছু বিরোধী দল পুরো ঘটনায় হতাশ। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, ‘সংসদ অচল থাকার ফল ভুগতে হচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলিকে। বিজেপি ও কংগ্রেস বক্তব্য রাখার জন্য অনেক বেশি সময় পায়। আমরা তা পাইনা।’
সম্পর্কিত সংবাদ