Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘন কুয়াশায় ফেরি পরিষেবা চাই,  লঞ্চে দিক নির্ণায়ক যন্ত্র বসানোর দাবি

: কুয়াশার মধ্যে ফেরি পরিষেবা চালু রাখতে লঞ্চে দ্রুত দিক নির্ণায়ক যন্ত্র বসানোর দাবি করল নবদ্বীপ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। পরপর দু’ দিন ঘন কুয়াশার কারণে চার ঘণ্টা করে নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জ ঘাটের মধ্যে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

ঘন কুয়াশায় ফেরি পরিষেবা চাই,  লঞ্চে দিক নির্ণায়ক যন্ত্র বসানোর দাবি
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: কুয়াশার মধ্যে ফেরি পরিষেবা চালু রাখতে লঞ্চে দ্রুত দিক নির্ণায়ক যন্ত্র বসানোর দাবি করল নবদ্বীপ ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। পরপর দু’ দিন ঘন কুয়াশার কারণে চার ঘণ্টা করে নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জ ঘাটের মধ্যে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়লেন শ্রমজীবী মানুষ এবং নবদ্বীপ ও মায়াপুরের ঘুরতে আসা পুণ্যার্থী, পর্যটক এবং দু’ পারের বাসিন্দারা।
Advertisement
নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি তিন বছর অন্তর ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে জেলা পরিষদ থেকে ফেরিঘাটের কাজকর্ম চালানোর অনুমতি পায়। তাই কুয়াশার মধ্যে লঞ্চ চালাতে দিক নির্ণায়ক যন্ত্র বসানোর দায়িত্ব নিক জেলা পরিষদ বলে দাবি তাদের। ইতিমধ্যেই ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি মিটিং ডেকেছেন। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা পরিষদকে দাবি জাননো হবে বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঘন কুয়াশার জন্য ভোর থেকে লঞ্চ ও নৌকো পরিষেবা বন্ধ ছিল। আর এর ফলে অসংখ্য মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর ভাগীরথীতে নৌকা ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় নবদ্বীপ ও স্বরূপগঞ্জের বাসিন্দাদের।
ঘন কুয়াশার কারণে ফেরিঘাট দেখা যাচ্ছিল না। ফলে মাঝিরা নৌকো চালাতে সাহস পাননি। ঘন কুয়াশায় দিক ঠিক রাখাটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল মাঝিদের। সে কারণে বিপদের কথা মাথায় রেখে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ নৌকো ও লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ রাখেন। তবে বেলা বাড়তেই কুয়াশা কেটে যাওয়ায় পর নৌকো ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নবদ্বীপ ফেরিঘাট জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, ঘন কুয়াশায় নদীর কূল কিনারা দেখতে না পাওয়ায় নৌকো বা লঞ্চ চালানো হয় না। লঞ্চে দিক নির্ণায়ক যন্ত্র বসালে তবেই কুয়াশায় ফেরি পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকেছি। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা পরিষদকে জানাব। যদি এ ব্যাপারে তারা কোনও উদ্যোগ না নেন তবে মানুষকে পরিষেবা দিতে আমরাই সচেষ্ট হব। এই সমস্যার কারণে সকলকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাইরের যাত্রীদের পাশাপাশি সব থেকে সমস্যায় পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষরা। ফেরিঘাটের যে ছ’টি লঞ্চ রয়েছে তার মধ্যে ওই সময়ে দু’টি  নবদ্বীপ ও স্বরূপগঞ্জ  এবং চারটি লঞ্চ নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে চালানো সম্ভব। তবে অবশ্যই যদি লঞ্চে দিক নির্ণায়ক যন্ত্র বসানা থাকে। 
মহেশগঞ্জের বাসিন্দা  ৬৭ বছরে কাসেম শেখ বলেন, নদী পার হয়ে প্রতিদিন নবদ্বীপে জনমজুরের কাজ করতে আসতে হয়। বৃহস্পতিবার কুয়াশার কারণে কাজে আসতে পারিনি। রোজগার না করলে পরিবারের মুখে অন্ন জুটবে না। 
নিত্যযাত্রী কনিষ্ক দাস বলেন, প্রতিদিন সকালে কর্মসূত্রে আমাকে কৃষ্ণনগর যেতে হয়। এই ঘন কুয়াশার সময়ে যদি উন্নত কোনও আলো বা দিক নির্ণয় করার ব্যবস্থা করে ঘাট কর্তৃপক্ষ। তবে এই সমস্যার সমাধান কিছুটা হলেও হবে। • নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ