সংবাদদাতা, ঘাটাল: সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ সম্পন্ন করা হবে। মঙ্গলবার কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যে খুশি ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দারা। প্রতি বছরের বন্যার অভিশাপ ও দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তির একটাই পথ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রকল্পটি নিয়ে ঘাটালবাসী দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় খুশি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণ কমিটির সদস্যরা।
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব। দেব বৈঠকে জানান, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান তাঁর অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে। তার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শেষ করার আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা খুবই ইতিবাচক বলে মনে করছেন ঘাটালের বাসিন্দারা। মাস্টারপ্ল্যানের মতো বড় ও সময়সাপেক্ষ প্রকল্পের রূপায়ণে জনপ্রতিনিধিদের এমন সার্বিক অংশগ্রহণই কাঙ্খিত বলে তাঁরা মনে করছেন।
বর্ষার মরশুমে নদীর জল উপচে ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হওয়া রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে প্রতিবছরই কৃষিকাজ থেকে শুরু করে জনজীবন ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। এই ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলার জন্য কয়েক দশক ধরে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অতীতে এই মেগা প্রকল্প নিয়ে বহু রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও দোষারোপের পালা চলেছে। পূর্বতন রাজ্য সরকার ৫০০কোটি টাকা খরচ করে মাস্টারপ্ল্যানের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণ কমিটির সম্পাদক নারায়ণ নায়েক বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন তাতে আমরা খুশি। আশা করছি, খুব শীঘ্রই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হবে। ঘাটালের বিধায়ক বিজেপির শীতল কপাট বলেন, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে আমরা গুরুত্ব দিয়ে মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণ করব। বন্যার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেব।