


সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকরী করতে হলে শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ে ৬০ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত এলাকায় কোনও নির্মাণ রাখা যাবে না। সে ক্ষেত্রে ঘাটাল শহরের মূল বাজারের বেশ কিছুটা অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। ভাঙা পড়বে বহু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি। তাহলে বাজারের মূল অংশটির আর অস্তিত্ব থাকবে না। স্বভাবতই প্রমান গুনতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিতে বৃহস্পতিবার রাতে গঙ্গাতলায় একটি বৈঠকে বসেন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, শিলাবতী নদীর পাড় থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত সমস্ত নির্মাণ উঠিয়ে দিলে ঘাটাল শহরটাই শ্মশানে পরিণত হবে। শহরের মূল বাজারের ৬০ শতাংশ দোকানেরই অস্তিত্ব থাকবে না। ঘাটাল শহরের গুরুত্বও হারিয়ে যাবে। সেচদপ্তরের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম হাজরা জানান, ঘাটাল শহরের অংশে রিটেনিং ওয়ালের জন্য শিলাবতী নদীর পাড় থেকে ৬০ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত এলাকায় কোনও নির্মাণ রাখা যাবে না, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে এই রকমই উল্লেখ রয়েছে। তবে এখনও নোটিফিকেশন করা হয়নি। ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাসও একই কথা জানিয়েছেন।
ঘাটাল শহরের প্রধান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি রয়েছে শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ে। প্রত্যেক বছর বন্যায় শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ের শহর এলাকাটি ডুবে যায়। সম্প্রতি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে শহরের একাংশকে বন্যা থেকে রক্ষা করার জন্য শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ে কৃষ্ণনগর থেকে দুধের বাঁধ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যব্যাপী এলাকায় সমস্ত নির্মাণ উঠিয়ে দিয়ে রিটেনিং ওয়াল তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেচদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের নয়া পরিকল্পনা মতোই নদী থেকে প্রায় ৬০ দূরে নদীর সমান্তরাল কংক্রিটের রিটেনিং ওয়াল তোলা সহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। এর ফলে শহরের একাংশকে বাৎসরিক বন্যার গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এদিকে শহরের ব্যবসায়ীরা বলেন, ঘাটাল মহকুমার মূল বাজার শিলাবতী নদীর পশ্চিম তীরে নদী বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। ২০০ বছরের প্রাচীন ওই বাজারটি যদি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয় তবে প্রায় দেড় হাজারের বেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সাড়ে তিন হাজারের মতো বসতবাড়ি সরাতে হবে। তাহলে বাজারের আর অস্তিত্ব থাকবে না।
শহরের মধ্যে এত পরিবার আর ব্যবসায়ীকে পুনর্বাসন দেওয়ার মতো জায়গা নেই। ফলে বহু পরিবার পথে বসবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌশিক দত্ত, তাপস দালাল, অংশুমান রানা প্রমুখ বলেন, প্রশাসনের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর থেকেই আমাদের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। আগামী দিনে আমরা কোথায় যাব তা ভেবে পাচ্ছি না। এতগুলি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান উঠে গেলে মহকুমার মানুষও সমস্যায় পড়বেন। কৌশিকবাবু বলেন, আমরা প্রথমে বিষয়টি নিয়ে ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। তারপরই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করব।-নিজস্ব চিত্র