সন্দীপ বর্মন , মাথাভাঙা: এখন আর পারিবারিক সেই জৌলুস নেই। ভাঙাচোরা দুর্গামন্দিরে শুধু অষ্টমীতে ঘটপুজো করা হয় শিলডাঙার পাটোয়ারি বাড়িতে। একসময়ে এই পাটোয়ারি বাড়ির দুর্গাপুজোয় আসতেন কোচবিহারের মহারাজারা। পুজো উপলক্ষ্যে চলত যাত্রাপালা গানের আসর। গোটা এলাকা মুখরিত হতো পাটোয়ারি বাড়ির পুজোর আনন্দে। এখন বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে সর্বজনীন দুর্গাপুজো হয়। সেই পুজোতে অংশগ্রহণ করে পরিবারের লোকজন। তবে এখন পাটোয়ারির ওই ভাঙা মন্দিরে অষ্টমীতে নিষ্ঠাভরে ঘটপুজো করে বর্তমান প্রজন্মের উত্তারাধিকারী বিশ্বজিৎ পাটোয়ারি।
মাথাভাঙা-ঘোকসাডাঙা রাজ্য সড়কের শিলডাঙা চৌপথি থেকে পূর্ব দিকে কয়েকশো মিটার গেলে বাঁ দিকে পড়বে পুরনো ঐতিহ্যবাহী পাটোয়ারি বাড়ি। বাড়িতে ঢোকার মুখেই সুবিশাল ভাঙাচোরা দালান। পূর্ব দিকে এখনও উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুর্গামন্দিরের একটিমাত্র দেওয়াল। মন্দিরের উঁচু ঢিবি বলে দেয়, ওই জায়গায়ও পাকা মন্দির ঘর ছিল।
পাটোয়ারি পরিবারের ধনবর পাটোয়ারি ছিলেন সবচেয়ে সফল মানুষ। শুধু জমিদারি নয়, কোচবিহার রাজদরবারে তাঁর ছিল অবাধ যাতায়াত। পরিবারটি বংশ পরম্পরায় রাজার তহশিলদার। এলাকায় কয়েক হাজার বিঘে জমির মালিক ছিল এই পাটোয়ারি পরিবার। বর্তমান প্রজন্মের কেউ বলতে পারেন না কবে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। তবে এলাকায় এখনও কান পাতলে শোনা যায় পরিবারের নানান গল্প। দুর্গাপুজোর সময়ে প্রায় মাসখানেক ধরে পাটোয়ারি বাড়িতে মানুষের ভিড় হতো পুজো দেখতে আসতেন কোচবিহারের মহারাজারা।