Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

হতে চলেছে বহুতল, প্রোমোটারের থাবায় গাভাসকরদের বাসস্থান

সুনীল গাভাসকরের উপরে কেউ নেই, কিন্তু আমি ওরও উপরে! মজার ছলে হলেই বা, অজিত ওয়াদেকরের গলায় মিশে থাকত প্রচ্ছন্ন গর্ব।

হতে চলেছে বহুতল, প্রোমোটারের থাবায় গাভাসকরদের বাসস্থান
  • ৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, মুম্বই: সুনীল গাভাসকরের উপরে কেউ নেই, কিন্তু আমি ওরও উপরে!

Advertisement

মজার ছলে হলেই বা, অজিত ওয়াদেকরের গলায় মিশে থাকত প্রচ্ছন্ন গর্ব। জীবদ্দশায় ঘনিষ্ঠ মহলে কথাটা কমবার শোনাতেন না সানির টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম ক্যাপ্টেন। নির্যাসটা হল, দুনিয়ায় গাভাসকরের উপরে তো কেউ নেই। কিন্তু ওর উপরেও রয়েছি আমি! বক্তব্যে ভুলও নেই। গাভাসকরের ঠিকানা ওরলি স্পোর্টসফিল্ডের অষ্টম তলা। আর তিনি, ওয়াদেকার থাকতেন নাইনথ ফ্লোরে। শুধু গাভাসকর কেন, এই আবাসনে যে কারও থেকেই ‘উচ্চতা’ বেশি তাঁর। ক্রীড়াবিদদের থাকার উদ্দেশ্যে মহারাষ্ট্র সরকারের দেওয়া এই জমিতে গড়া হয়েছিল ন’তলার এই বাড়ি। তবে সেই ঐতিহ্যেই পড়তে চলেছে থাবা। বাড়ি ভেঙে আগস্টেই বহুতল গড়তে চলেছে প্রোমোটার। হতে পারে আকাশচুম্বি ৩৬ তলাও। দিলীপ বেঙ্গসরকর যেমন বলেই দিলেন, ‘আর তো কয়েক মাস! আগস্টে আমরা শিফট করছি।’ ১৯৮০ ওলিম্পিকসে সোনাজয়ী হকি দলের সদস্য সোমাইয়া জানালেন, ‘স্পোর্টসফিল্ড কো-অপরেটিভ হাউসিং সোসাইটির সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে।’ ঘটনা হল, ‘শেষ’ হতে চলেছে আবেগ, ঐতিহ্যও। পাশের সমুদ্রেই বিসর্জন ঘটবে আবাসনটির চারিত্রিক বৈশিষ্ট‌্যও। তখন বহুতলে আনাগোনা ঘটবেই সমাজের রকমারি ক্ষেত্রের মানুষের। 
ওরলি সি-লিঙ্ক যেখানে জমি স্পর্শ করছে তার ঠিক বাঁদিকেই ১৬৭৪ স্কোয়ার মিটার জায়গায় গড়া এই বাড়ি। ১৯৮৩ বিশ্বকাপের পর সরকারের কাছে এই জমি আদায়ে বড় ভূমিকা ছিল ওয়াদেকরের। তিনি তখন স্টেট ব্যাঙ্কের বড়কর্তা। চার বছর পর তৈরি হয় আবাসন। সাততলা পর্যন্ত প্রতিটিতে দুটো করে ফ্ল্যাট। প্রতি ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া বারোশো থেকে কমবেশি ষোলোশো স্কোয়ার ফিট। উপরের দুটো ফ্লোর যথাক্রমে গাভাসকর, ওয়াদেকরের। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের কার্পেট এরিয়া দ্বিগুণ। একসময় এখানে থাকতেন ছ’জন ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন। ওয়াদেকর ছাড়াও জিএস রামচাঁদ, পলি উমরিগড়। দু’জনেই পাঁচের দশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ভারতকে। জীবিত ক্যাপ্টেনদের মধ্যে নেমপ্লেটে সানি ছাড়াও ঝুলছে দিলীপ বেঙ্গসরকর ও রবি শাস্ত্রীর নাম। কিন্তু নামে কী-ই বা এসে যায়! মানতে তো হবে সময়ের দাবিকে। পুরনো আমলের ড্রেনেজ সিস্টেম কাজ করছে না। ঘরদোরও স্যাঁতসেঁতে। তিন দশকের ধাক্কায় বাড়ির দশা বেহাল। স্মৃতির উপর যতই অত্যাচার হোক, এই বাড়িকে ঘিরে রোমাঞ্চের যতই পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটতে যাক, বাস্তব এটাই। আর তাই ঘিরে ধরছে বিষণ্ণতা। বিপদে আপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর রীতিতে এবার হয়তো কালের নিয়মে ধরবে মরচে। সেই আপশোস ভাসছে আরব সাগরের গন্ধমাখা বাতাসে। এটা যে তৈরিই হয়েছিল ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার লক্ষ্যে!

সম্পর্কিত সংবাদ