Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বয়সে বড়’, গৌরব বিয়ের প্রস্তাব এড়াতেই চরম সিদ্ধান্ত রীনার?

মধ্যমগ্রামে রীনার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর গৌরবের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বিয়ের চাপের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর। বিস্তারিত পড়ুন।

‘বয়সে বড়’, গৌরব বিয়ের প্রস্তাব এড়াতেই চরম সিদ্ধান্ত রীনার?
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রথমে ছিল প্রেম। সুযোগ পেলেই শহরের কোলাহল ছেড়ে কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন দু’জন। আবার মাঝেমধ্যেই মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের ধারে একটি হোটেলে ঘর ভাড়া নিয়ে কাটত তাঁদের একান্ত সময়। কিন্তু সেই সম্পর্কের রং ধীরে ধীরে ফিকে হতে শুরু করে। সূত্রের খবর, মধ্যমগ্রামের লিভ-ইন কাণ্ডের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই এক নতুন সমীকরণ।

Advertisement

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, সোমবার হোটেলের ওই ঘর থেকে বছর চল্লিশের রীনা রামের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধৃত লিভ-ইন পার্টনার গৌরব শেঠকে জেরা করে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা তাঁর প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বছর দু’য়েকের সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে চাইছিলেন তিনি। সেই পথেই তৈরি হয়েছিল সবচেয়ে বড়ো বাধা। রীনা গৌরবের থেকে প্রায় ১২ বছরের বড়ো। শুধু তাই নয়, তিনি বিবাহিতা এবং এক মেয়ের মা। তাছাড়া রীনার মেয়েরও বিয়ে হয়ে গিয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না রীনা। পড়শি গৌরবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর গত মার্চ মাস থেকে মাঝেমধ্যেই যশোর রোডের ধারে একটি হোটেলে লিভ-ইন সঙ্গী হিসাবে সময় কাটাতেন তাঁরা। জেরায় ধৃতের দাবি, প্রথমদিকে সব ঠিকঠাক থাকলেও গত কয়েক মাসে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। রীনা বারবার বিয়ের প্রসঙ্গ তুলছিল। কিন্তু নিজের থেকে ১২ বছরের বড়ো, বিবাহিতা এবং এক সন্তানের মাকে বিয়ে করলে পরিবার-পরিজন ও সমাজ তা সহজভাবে নেবে না— এই আশঙ্কায় সম্পর্ক থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে চাইছিলেন গৌরব। সূত্রের দাবি, এই দ্বন্দ্বের কারণেই প্রায়ই তাঁদের মধ্যে তুমুল অশান্তি হত।
পুলিশের অনুমান, ঘটনার আগের দিনও এ নিয়ে হোটেলের ঘরে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। অশান্তির পর গৌরব সেখান থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। রীনা থেকে যান হোটেলের ঘরে একাই। পরের দিন পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হোটেলের দরজা ভেঙে উদ্ধার করে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, বিয়ে নিয়ে মতবিরোধ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আর মানসিক টানাপোড়েন— এই তিনের যোগসূত্রেই গেল রীনার প্রাণ। ইতিমধ্যেই দু’জনের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, মেসেজ, হোটেলের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ