


সংবাদদাতা, কাঁথি: গতবছর ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্যলগ্নে সাগরপাড়ের অনন্য স্থাপত্য দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছিল। বর্ষপূর্তির আবহে এবার এলাহি আয়োজন করছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরে জগন্নাথদেবের বিগ্রহের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা হবে গৌর-নিতাইয়ের বিগ্রহও। এবার ১৯ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়া। ওই পূণ্য লগ্নে আধ্যাত্মিক রীতিনীতি মেনে মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে গৌর-নিতাইয়ের। পাশাপাশি ওইদিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ বাংলা নববর্ষেও রয়েছে হরেক অনুষ্ঠান। জগন্নাথ মন্দিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। এমনিতেই দীঘার জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে দেবালয় দর্শনে সবসময়ের জন্য পর্যটক ও পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগেই রয়েছে। আগে ছিল শুধু সমুদ্র। এখন সমুদ্রদর্শনের সঙ্গে বাড়তি পাওনা জগন্নাথ মন্দির দর্শন। বর্তমানে ভোটের মরশুম। তবুও ওই সময়েও দীঘায় যথেষ্ট ভিড় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ভক্তি ও আস্থার অন্যতম পীঠস্থান দীঘার জগন্নাথ মন্দির বর্তমান আধ্যাত্মিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। গত একবছরে এক কোটিরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন এই মন্দিরে। গতবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ভক্তদের জন্য খুলে গিয়েছিল মন্দিরের দ্বার। এবার সেই দিনের কথা মাথায় রেখে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে বিশেষ আয়োজন হয়েছে।
মন্দির সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন সকাল থেকে চলবে বিশেষ পুজোপাঠ। পাশাপাশি রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহের পাশে পিতলের গৌর অর্থাৎ গৌরাঙ্গ বা চৈতন্য মহাপ্রভুর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হবে। আর প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে প্রভু নিত্যানন্দের। নিতাই বা নিত্যানন্দ প্রভু পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর অগ্রজ বলরামের অভিন্ন অবতার। গৌড়ীয় বৈষ্ণবমতে চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের অবতার।
চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর জীবনের শেষ ১৮বছর পুরীতেই কাটিয়েছিলেন। শ্রীক্ষেত্র ছিল চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র। মূলত গৌড়ীয় বৈষ্ণব প্রভাবিত মঠ বা মন্দিরে জগন্নাথদেবের সঙ্গে চৈতন্য মহাপ্রভুও অবস্থান করেন। সেই ঐতিহ্য অনুযায়ী এবার দীঘার জগন্নাথ মন্দিরেও প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে গৌর-নিতাইয়ের। অক্ষয় তৃতীয়ার দিন সকাল থেকে চলবে পুজোপাঠ। পাশাপাশি ১০৮ তীর্থক্ষেত্রের জল দিয়ে হবে অভিষেক পর্ব। বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে রঙিন আলোকমালায় সাজবে গোটা মন্দির চত্বর। কয়েক হাজার প্রদীপ জ্বালানো হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এরপর থেকেই শুরু হবে দীঘায় রথযাত্রার প্রস্তুতি। রথ পুজো করে শুরু হবে আচার বিধি। ওই বিশেষ দিনে ভক্তদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে সারাদিন মন্দির খোলা রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা নববর্ষেও বিশেষ পুজোপাঠের আয়োজন করা হয়েছে জগন্নাথ মন্দিরে।
জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য রাধারমন দাস বলেন, অক্ষয় তৃতীয়ায় মন্দিরের বর্ষপূর্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পয়লা বৈশাখেও থাকছে নানা অনুষ্ঠান। জগন্নাথদেবের সঙ্গে মন্দিরে এবার গৌর-নিতাইয়ের বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে।