


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে নাজেহাল গোটা দেশ। অনেকেই গ্যাস ছেড়ে ফিরছেন প্রাচীন কয়লার উনুনে। এই পরিস্থিতিতে দেশের মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়্গপুর আইআইটিতে শুক্রবার থেকে কাঠের উনুনে রান্না শুরু হল। প্রতিষ্ঠানের তরফে এটিকে অবশ্য ‘বিকল্প’ ব্যবস্থা বলা হচ্ছে। একদিকে কেন্দ্র সরকার যখন বলছে দেশে জ্বালানির সঙ্কট নেই, তখন কেন্দ্রীয় সরকারেরই নামজাদা প্রতিষ্ঠানে কাঠের উনুনে রান্না ঘিরে উঠছে প্রশ্ন।
খড়্গপুর আইআইটির ২৫টি রেসিডেনশিয়াল হলে প্রায় ১৫ হাজার পড়ুয়া রয়েছেন। তাঁদের দু’ বেলার খাবার, টিফিন তৈরির জন্য প্রতিটি হলেই রয়েছে ক্যান্টিন। সেজন্য প্রতিদিন গড়ে একশোর বেশি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিতে পারে, এই আশঙ্কায় বুধবারই আইআইটির তরফে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণাকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার থেকেই খড়্গপুর আইআইটির বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনগুলিতে কাঠের উনুনে রান্না শুরু হয়েছে। খড়্গপুর আইআইটির মদনমোহন মালব্য হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক কর্মী পঙ্কজ কুমার এদিন বলেন, আপাতত যেটুকু গ্যাস সিলিন্ডার আছে, তাতে খুব বেশি হলে ৪-৫ দিনের রান্না হবে। আমরা সিলিন্ডারের জন্য বুকিংও করে দিয়েছি। তবে, পাব কি না, জানা নেই! তাই, কাঠের ব্যবস্থাও করে রেখেছি। যদিও তিনি এও জানান, কাঠের উনুনে রান্না হলে আমরা ভাত, সবজি, ডাল দিতে পারব। রুটি তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন পদেও কাটছাঁট করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আইআইটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়ারা থাকেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই রুটি বা ওই জাতীয় খাবার খান। বিশেষত, ব্রেক ফাস্ট এবং রাতের খাবারে সংখ্যাগরিষ্ঠ পড়ুয়াই রুটি পছন্দ করেন। এছাড়াও আছে, ভেজ ও নন ভেজ পৃথক পৃথক পদ। সেক্ষেত্রে আগামীদিনে পুরোপুরি কাঠের উনুনে রান্না শুরু হলে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে, তার পূর্বাভাস মিলেছে ক্যান্টিনের কর্মীদের কথায়। যদিও, তেমনটা মানতে রাজি নন খড়্গপুর আইআইটির অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী। শুক্রবার তিনি বলেন, এখনও অবধি সমস্যা হয়নি।
তবে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কথা ভেবে আমরা বিকল্প হিসেবে কাঠের উনুনও প্রস্তুত করে রেখেছি। মজুত থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বাঁচিয়ে রাখতে শুক্রবার থেকে কিছু কিছু রান্না কাঠের উনুনে করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে কাঠের উনুনে সমস্ত রান্নাই করা সম্ভব বলে দাবি ডিরেক্টরের। তিনি বলেন, রুটি করতেও কোনো সমস্যা হবে না। এখানকার রাঁধুনিরা যথেষ্ট দক্ষ। কোনো সমস্যা হবে না।-নিজস্ব চিত্র