সুজিত ভোমিক, কলকাতা: থানা থেকে অনলাইনে অ্যারেস্ট রিপোর্ট পাঠানোর ক্ষেত্রে ধৃতের ছবির জায়গায় ‘গারবেজ-ডেটা’ আপলোড করা হচ্ছে! কলকাতাসহ রাজ্যের বেশ কিছু থানার ক্ষেত্রে এই চাঞ্চল্যকর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই রাজ্যের সব জেলার এসপি এবং সিপিকে সতর্ক করলেন স্টেট ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কর্তারা। রাজ্য পুলিশের এক বিশেষ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতাসহ রাজ্যের সমস্ত থানাতেই ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সিস্টেম (সিসিটিএনএস)-এর মাধ্যমে অনলাইনে এফআইআর দায়ের করেন থানার দারোগারা। পরে এই এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশের হাতে অভিযুক্তদের কেউ গ্রেপ্তার হলে নির্ধারিত সময়ে সেই অ্যারেস্ট রিপোর্ট সিসিটিএনএস-এর মাধ্যমে স্টেট ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোতে পাঠাতে হয়।
রাজ্য পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছেন, সিসিটিএনএস-এর মাধ্যমে অনলাইনে এই রিপোর্ট পাঠানোর ক্ষেত্রেই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেট ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কর্তারা লক্ষ্য করেছেন, অ্যারেস্ট রিপোর্ট খুলতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে যে ধৃতের ছবির জায়গায় ‘গারবেজ-ডেটা’ আপলোড করা রয়েছে। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে দেশজুড়ে এই সিসিটিএনএস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, তা কার্যত ভেস্তে যেতে বসেছে।
স্টেট ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর কর্তারা অবশ্য ওই সতর্কবার্তায় উদাহরণ হিসাবে বারুইপুর পুলিশ জেলার জীবনতলা থানার পাঠানো কিছু ছবি তুলে ধরেছেন। তাতে দেখা গিয়েছে, প্রায় সবক্ষেত্রেই ধৃতের ছবির জায়গায় অবাঞ্চিত ‘গারবেজ’- এর ছবি আপলোড করা হয়েছে। এই ভুল ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত, তা অবশ্য পরিষ্কার নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতাসহ রাজ্যের সব থানায় অনলাইনে এই রিপোর্ট পাঠানোর কাজ চলছে সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। গোটা দেশে অনেক আগেই এই সিসিটিএনএস ব্যবস্থা চালু হলেও এরাজ্যে বিগত সরকারের অনিচ্ছায় বিষয়টি এগয়নি। নতুন সরকার এসে এই নিয়ম চালু করেছে। ফলে দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে থানায় এসব কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মী থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এখনও সেই কর্মী নিয়োগ করা হয়নি। তার জন্যই এই অবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে।