


সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: নতুন বছরের শুরুতেই তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে জেলাবাসীর পাতে জায়গা করে নিচ্ছে গঙ্গারামপুরের বিখ্যাত ক্ষীর ও সাদা দই। উৎসবের আমেজ থাকলেও এবার খাদ্যতালিকায় কিছুটা বদল আনতেই হচ্ছে বাঙালিকে। এ বছর আর দেখা মিলবে না বাংলাদেশের নোনা বা কাঁচা ইলিশের। তার বদলে আরব সাগর থেকে আসা হিমায়িত ইলিশই উঠবে পাতে।
বাঙালির যে কোনো উৎসব মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেকেই এখন হালকা ও সতেজ খাবারের দিকেই ঝুঁকছেন। তাই নববর্ষের শেষপাতে ক্ষীর দইয়ের চাহিদা থাকলেও এবার তুলনামূলক হালকা ক্ষীরের সাদা দই তৈরির দিকেই ঝুঁকেছেন গঙ্গারামপুরের প্রস্তুতকারকরা।
ইতিমধ্যেই প্রিয়জন ও আত্মীয়দের উপহার হিসেবে ক্ষীর দই পাঠানোর জন্য জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে শুরু হয়ে গেছে আগাম বুকিং। গঙ্গারামপুর ও নয়াবাজার এলাকায় দই প্রস্তুতকারকদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। প্রায় ৫০টি পরিবার মিলে প্রায় দু’শো কুইন্টাল দুধ দিয়ে দই তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। শুধু জেলা নয়, প্রতিবেশী বিহার ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও আসছে অর্ডার। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দামে। খাঁটি ক্ষীর দই প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, ইলিশের বাজারেও আগুন। দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ মাছের আড়ৎ থাকায় এখান থেকেই বিভিন্ন জেলায় পাইকারি দামে মাছ সরবরাহ করা হয়। শহরে বড় হিমঘর থাকায় আরব সাগরের হিমায়িত ইলিশ মজুত করে ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় পাঠানো শুরু হয়েছে।
পাইকারি বাজারে ৫০০ গ্রামের মধ্যে ইলিশের দাম কেজি প্রতি প্রায় ৬০০ টাকা। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। খুচরো বাজারে এই দাম গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা প্রতি কেজিতে।
গঙ্গারামপুরের দই প্রস্তুতকারক যোগেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, সারা বছর আমাদের দইয়ের চাহিদা থাকে। উৎসবের সময় বেশি তৈরির প্রস্তুতি নিই। তবে দই আগে থেকে বানিয়ে রাখা যায় না, তাই নববর্ষের তিনদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হয়।
মাছের আড়ৎদার হরিলাল হালদার বলেন, বাংলাদেশ থেকে না আসায় এবারে কাঁচা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আরব সাগরের হিমায়িত ইলিশ দিয়েই নববর্ষের চাহিদা মেটাতে হবে। আমরা ডায়মন্ড হারবারের হিমঘর থেকে ইলিশ এনে সংরক্ষণ করেছি এবং জেলায় সরবরাহ করছি। সব মিলিয়ে, গরমের দাপট ও বাজার পরিস্থিতির মাঝেও গঙ্গারামপুরে নববর্ষের প্রস্তুতি তুঙ্গে। দই আর ইলিশ দিয়েই জমে উঠবে উৎসব। • নিজস্ব চিত্র।