Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্রিটিশের কর আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মেদিনীপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন বাঁকুড়ার গান্ধীবুড়ি

বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় কারাবরণ করেছিলেন ইন্দাসের আকুইয়ের স্বাধীনতা সংগ্রামী ননীবালা গুহ। বাঁকুড়া জেলায় মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে তিনি অগ্রণীভূমিকা পালন করেন।

ব্রিটিশের কর আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মেদিনীপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন বাঁকুড়ার গান্ধীবুড়ি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় কারাবরণ করেছিলেন ইন্দাসের আকুইয়ের স্বাধীনতা সংগ্রামী ননীবালা গুহ। বাঁকুড়া জেলায় মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে তিনি অগ্রণীভূমিকা পালন করেন। তাই তিনি বাঁকুড়ার‘গান্ধীবুড়ি’নামেও পরিচিত হন।  বিপ্লবী আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি নিজের গ্রামে নারী শিক্ষার অগ্রগতি ঘটিয়েছিলেন। তাই তাঁর নামে আকুই গ্রামে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর  স্বাধীনতা দিবসের দিনেএই গান্ধীবুড়িকে সম্মান জ্ঞাপন করেন বাঁকুড়াবাসী। 

Advertisement

আকুইয়ের বাসিন্দা পঙ্কজ মাজিলার কথায়, একজন নারী স্বাধীনতা সংগ্রামীর গ্রামে আমাদের জন্ম এটা ভাবতেই গর্ববোধ হয়। আমরা ননীবালাদেবীকে স্মরণে রাখার চেষ্টা করি। আগামী প্রজন্মও যাতে তাঁকে স্মরণে রাখে সেজন্য যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।  
জানা গিয়েছে, ১৮৮৪সালের ১৭ফেব্রুয়ারি ইন্দাসের আকুই গ্রামে রক্ষিত পরিবারে ননীবালা গুহ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৃষ্টিধর রক্ষিত। মাত্র ৯বছর বয়সে ওই গ্রামেরই জগৎদুর্লভ গুহের সঙ্গে ননীবালার বিয়ে হয়। কিন্তু মাত্র দু’বছর বাদেই স্বামীকে হারান ননীবালা। পরবর্তীকালে তিনি বাঁকুড়া জেলার স্বাধীনতা সংগ্রামী জগবন্ধু দত্তের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর কাছে বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষা নেন। এরপরেই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ননীবালা। ১৯৩০সালে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেলার অন্যতম মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে স্বাধীনতাআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৪২সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন ননীবালা দেবী। অত্যাচারী ব্রিটিশের কর আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বহুদিন তাঁকে বিনা বিচারে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি থাকতেহয়েছিল। পরবর্তীকালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গ্রামে ফেরেন। নিজে বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেননি। কিন্তু নারীশিক্ষার তাৎপর্য অনুভব করতে পেরেছিলেন। গ্রামের মহিলাদের শিক্ষিত করার কাজে ব্রতী হন ননীবালা দেবী। নিজের বসতবাড়িতে স্কুল খোলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ওই স্কুলই বর্তমানে আকুই ননীবালা প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। পরবর্তীকালে তাঁর নামে গড়ে ওঠে আকুই ননীবালা উচ্চ বিদ্যালয়।  স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭২সালে ভারত সরকার তাঁকে তাম্রপত্র দিয়ে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৯০সালের ১৭এপ্রিল জীবনাবসান হয়এই মহিয়সী নারীর। এই স্বাধীনতা যোদ্ধাকে সম্মানিত করতে ২০১৬সালে ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে আকুইগ্রামেবাঁকুড়ার গান্ধীবুড়ির আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন হয়। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ