Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডোমকল, হরিহরপাড়ার গামছাই বিকোচ্ছে বেলডাঙার নামে

দেশ জোড়া নাম বেলডাঙার গামছার। কিন্তু অনেকেই হইতো জানেন না, বেলডাঙার গামছার আঁতুরঘর ডোমকল, ইসলামপুর বা হরিহরপাড়া ব্লক। এই গামছাই বেলডাঙার গামছা নামে বিকোয়।

ডোমকল, হরিহরপাড়ার গামছাই বিকোচ্ছে বেলডাঙার নামে
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: দেশ জোড়া নাম বেলডাঙার গামছার। কিন্তু অনেকেই হইতো জানেন না, বেলডাঙার গামছার আঁতুরঘর ডোমকল, ইসলামপুর বা হরিহরপাড়া ব্লক। এই গামছাই বেলডাঙার গামছা নামে বিকোয়। তবে অন্য গামছার তুলনায় বেলডাঙার গামছার রং ও বুনন শৈলীর কিছু হলেও তফাত রয়েছে। বেলডাঙার গামছা বিক্রেতারা জানান, ডোমকল, হরিহরপাড়া, ইসলামপুরের তাঁতিদের বরাত দিয়েই এই গামছাগুলি তৈরি হয়। দোকানে পৌঁছে এগুলিই হয়ে যায় বেলডাঙার গামছা। সারা রাজ্যের মানুষ কাজে বা ভ্রমণে মুর্শিদাবাদ এলে খাগড়ার কাঁসা, পিতল বা মুর্শিদাবাদ সিল্কের সঙ্গে বেলডাঙার গামছা অন্তত একটি নিয়ে যান।

Advertisement

বেলডাঙার নামে রাজ্যের মানুষের ভিন্ন ধারনা রয়েছে। এই ধারনাগুলি অবশ্যই সুখ্যাতির নয়। যা নিয়ে বেলডাঙার মানুষ গর্ব করতে পারেন না। তবে বেলডাঙার মনোহারা একসময় এই ব্লকের মুকুটে সুখ্যাতির পালক জুড়ে দিয়েছিল। আর বেলডাঙার গামছা আজও সেই খ্যাতি ধরে রেখেছে। সারা রাজ্যে অন্যতম বড় কাপড়ের হাটের তালিকায় বেলডাঙা হাটের নাম রয়েছে। এই কাপড়ের হাট থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেলডাঙার গামছা ছড়িয়ে পড়ে। বেলডাঙা ঢুকলেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’পাশের দোকানে ঝোলানো গামছা নজরে পড়বে। লালগোলা-শিয়ালদহ শাখায় ট্রেনে উঠলেই গামছা হাতে হকারের দেখা মিলবেই। এই গামছাগুলির রঙের আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে। চার হাত দৈর্ঘ্যের সুতির গামছার দাম ১১০ টাকা। তার থেকে একটু ছোট সাড়ে তিন হাতের গামছার মূল্য ৯০ টাকা প্রতি পিস। এছাড়া অনেকটা ওড়নার মতো দেখতে ছোট আকৃতির গামছাও মেলে। বিক্রেতারা যার নাম দিয়েছেন বিহারি গামছা। অধিকাংশ বিহারি লরি চালকরা শুধু মুখ মোছার জন্য এই গামছা গলায় ঝোলান। তবে এখন শুধু লাল নয়, কালো, সাদা, গেরুয়া, কমলা, সবুজ রঙা নকশা করা গামছাও এখন অনেকেরই মন কাড়ছে। 
সবই বেলডাঙার গামছার ব্র্যান্ডে চলছে। কিন্তু কোনোটাই বেলডাঙা ১ ও ২ ব্লকের তৈরি নয়। গামছাগুলি মূলত ডোমকল ব্লকের কারিগরপাড়া, ফতেপুর, ইসলামপুর ব্লকের চক ও হরিহরপাড়া ব্লকের তক্তিপুর, রেজেলাপাড়া, সরিফপুর থেকে তৈরি হয়ে আসে। 
বেলডাঙার গামছা বিক্রেতা ফরদিন আলমের কথায়, বেলডাঙায় কোনো গামছা তৈরি হয় না। আমরা ডোমকল, ইসলামপুর থেকে তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি গামছা কিনে আনি। কিন্তু গামছাগুলি বেলডাঙার বলেই বিক্রি হয়ে আসছে। তবে বরাত দিয়ে আনা গামছার রং ও বুনন বৈশিষ্টই বেলডাঙার ট্রেড মার্ক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ