


সংবাদদাতা, মানকর: বুধবার পানাগড়ের দানবাবা মেলা থেকে প্রচার ও জনসংযোগ শুরু করেলন গলসির তৃণমূল প্রার্থী অলোককুমার মাঝি। এদিন তিনি দানবাবার মাজারে চাদর চড়িয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পাশাপাশি গলসি-১, ২ ও কাঁকসা ব্লকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের রণকৌশলে ঠিক করার কাজ শুরু করেন। অলোকবাবু বলেন, ব্লক সভাপতি সহ বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পরপর বৈঠক করছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। যদিও বিরোধীদের দাবি, তিনি যতই জনসংযোগ করার চেষ্টা করুন না কেন, ওঁর দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
১৯৫২ সালের প্রথম নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী। তারপর থেকে বরাবর জিতেছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীরা। ২০১৬ সালে তৃণমূলের হয়ে অলোককুমার মাঝি জয়ী হন। ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে গলসির বিধায়ক হন নেপাল ঘোড়ুই। সেই সময় অলোককে তৃণমূল জামালপুর আসনে দাঁড় করালে তিনি জয়ী হন। এবার ফের পুরনো বিধায়ককে এখানে প্রার্থী করায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা গিয়েছে। যদিও বিরোধীদের দাবি, এবারে তৃণমূল এখানে হালে পানি পাবে না। সিপিএম নেতা হারাধন ঘোষ বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ এমনিতেই ওই প্রার্থীকে জনবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আমরা ৩৬৫ দিনই সাধারণ মানুষের দাবিগুলি নিয়ে লড়াই করছি। ফলে মানুষ ফের লাল ঝাণ্ডাকেই বেছে নেবে। তাছাড়া গতবারের বিধায়কও মানুষের কাজ করতে ব্যর্থ। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, ওঁর যদি এতই জনসংযোগ থাকতো, তাহলে অন্য কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে হতো না। মানুষ এই চালাকি বুঝতে পেরেছে। তাই এবার মানুষ পদ্মফুলকেই বেছে নেবে। যদিও বিরোধীদের এই মন্তব্যকে পাত্তা দিতে রাজি নন তৃণমূলের গলসি-১ ব্লকের সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। তাই আমরা জনবিচ্ছিন্ন নাকি, জনসংযোগ করছি, তা নিয়ে বিরোধীদের ভাবার দরকার নেই। তারা নিজেদের প্রার্থী নিয়ে ভাবুক।