


মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: বিধানসভা হোক কিংবা লোকসভা, এমনকি ত্রিস্তর গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটেও গাজোলে সিপিএম, কংগ্রেসের ভোট সুইং হয়ে চলে গিয়েছিল বিজেপিতে। এর ফলে গাজোলে ২০২১ বিধানসভা ভোটেও জিতে যায় বিজেপি।
এবার ওই বিধানসভায় চতুর্মুখী লড়াই। সিপিএম প্রার্থী ক্ষিতীশ সরকার। কংগ্রেস এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তৃণমূলের হয়ে লড়াইয়ে প্রসেনজিৎ দাস এবং বিজেপির প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী চিন্ময় দেব বর্মন। গাজোলে এবার চর্চা শুরু হয়েছে জোট ভেঙে এবার কংগ্রেস এবং সিপিএম আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় ভোট কি ঘরে ফিরবে? নাকি ফের সুইং হয়ে বিজেপি বা অন্য দলে চলে যাবে?
প্রথমবার গাজোলে জিততে মরিয়া তৃণমূল। দলের মালদহের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, জাতপাতের রাজনীতি মানুষ বিশ্বাস করে না। সম্প্রীতির জন্য মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবে। আর কংগ্রেস এবং বামেদের ভোট নেই।
১৯৫১-২০১৬ সাল পর্যন্ত বাম এবং কংগ্রেসের গড় ছিল গাজোল বিধানসভা। ১৯৫১ সালে বাম, ’৬৭-তে কংগ্রেস, ’৭১-এ বাম, পরের বছর ফের কংগ্রেস এবং শেষে ’৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বামদের দুর্গ ছিল এই কেন্দ্র। ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে জিতেছিল কংগ্রেস। ২০১৬ তে কংগ্রেসের জোট প্রার্থী হিসাবে সেখানে ফের জেতে বামেরা। ২০২১ সালে দু’দলের জোট হলেও ভোট সুইং করে চলে যায় বিজেপির দিকে।
গাজোল বিধানসভায় বিজেপির ইনচার্জ তথা উত্তর মালদহের সম্পাদক বীণা কীর্তনিয়ার কথায়, এখন সবাই বিজেপিমুখী। সবাই আমাদের ভোট দেন বলেই জিতেছিলাম। এবারও জিতবেন আমাদের প্রার্থী। অন্য দলের প্রতি মানুষের আর আস্থা নেই।
ঘুরে দাঁড়াতে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি, পুরসভা না হওয়া সহ একাধিক ইস্যুতে ভোট ময়দানে নেমে পড়েছে সিপিএম। বামেদের প্রাক্তন বিধায়ক সাধু টুডু বলেন, এক সময় গাজোল আমাদের গড় ছিল। তবে, মানুষকে তো আর ধরে রাখা যায় না। গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। আমরা এবার ভালো ফল করব।
কংগ্রেসের গাজোলের ব্লক সভাপতি প্রেম চৌধুরী বলেন, এবার একা লড়ছি। পদ্ম এবং ঘাসফুল মানুষের পছন্দ নয়। কংগ্রেসের প্রতীক বেছে নেবে ভোটাররা।