নয়াদিল্লি: সংসদে বিল পাশ হয়েছে আগেই। মিলেছে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনও। অবশেষে কার্যকর হতে চলেছে ‘বিকশিত ভারত জি-রাম-জি’ (বিভিজিরামজি)। কেন্দ্র সরকারের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে এই আইন কার্যকর হতে চলেছে। একইসঙ্গে বাতিল হচ্ছে মনরেগা।
গ্রামীণ কর্মসংস্থানে লক্ষে ২০০৫ সালে সংসদে মহাত্মা গান্ধী নারেগা আইন (মনরেগা) পাশ হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বছরে ১০০ দিনের কাজের জোগানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। গতবছর শীতকালীন অধিবেশনে এই প্রকল্পের নাম বদলের উদ্যোগ নেয় মোদি সরকার। কেন্দ্রের তরফে ‘বিকশিত ভারত জি-রাম-জি’ (বিভিজিরামজি) চালুর বিল পেশ হয় লোকসভায়। তাতে কাজের মেয়াদ ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব রাখা হয়। প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদের বিষয়টা নিয়ে উত্তাল হয় লোকসভা। শেষ পর্যন্ত সংসদে বিলটি পাশ হয়।
এবার কেন্দ্র জানাল, আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলেছে বিভিজিরামজি। জানা গিয়েছে, নতুন প্রকল্পের জন্য ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক বিষয়টিকে ‘ঐতিহাসিক রূপান্তর’ আখ্যাা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩০শে জুন পর্যন্ত মনরেগার অধীনে চলমান কাজগুলি নতুন কাঠামোর অন্তর্ভূক্ত হবে। নির্বিঘ্নে হবে এই রূপান্তর। নতুন ‘গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড’ জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান জব কার্ডগুলোই বৈধ থাকবে। ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া বকেয়া থাকার জন্য কর্মীদের বঞ্চিত করা হবে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, কাজের মজুরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এছাড়া মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি প্রদানের কথাও বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন শ্রমিকরা।
কেন্দ্রের এই ঘোষণা নিয়ে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, বিভিজিরামজি নিয়ে কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কিছু বলা হয়নি। আকর্ষনীয় শিরোনাম তৈরিই ছিল এর আসল উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, ১ জুলাই থেকে মনরেগার পরিবর্তে এই আইন কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। তাই এতদিনে সমস্ত কার্যকরী বিবরণ প্রকাশ করা উচিত ছিল। রামেশ যোগ করেন, জিরামজি কেবল একটাই বিষয়ের গ্যারান্টি দেয়। তা হল চূড়ান্ত কেন্দ্রীকরণ এবং গ্রামীণ শ্রমিকদের দরকষাকষির ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া।