Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

গায়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, কৃষককে বাঁচিয়ে ১০ লক্ষ টাকার বিল ধরাল পুলিস, রাজস্থানের বিতর্ক

গায়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, কৃষককে বাঁচিয়ে ১০ লক্ষ টাকার বিল ধরাল পুলিস, রাজস্থানের বিতর্ক
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
জয়পুর: স্থানীয় সিমেন্ট প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এক কৃষক। দাবি না মানলে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে তার আগেই বিদ্যাধর যাদব নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিস। এরপরই এই গোটা অভিযানের খরচ বাবদ তাঁর থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে পাঠিয়েছেন স্বয়ং জেলার পুলিস সুপার। তাতেই মাথায় হাত পড়েছে ওই কৃষকের। রাজস্থনের ঝুনঝুনু জেলার গোথরার এই ঘটনা ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক। পুলিস জানিয়েছে, জমির ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিবাদের জেরে ঘটনার সূত্রপাত। খাদান তৈরির জন্য বিদ্যাধরের পৈত্রিক বাড়ি ভেঙে দিয়েছিল ওই সিমেন্ট কোম্পানি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের পুরো টাকা কোম্পানি দেয়নি বলে অভিযোগ। দেওয়া হয়নি কোনও স্থায়ী বাসস্থান। জবরদখলের পাশাপাশি কোম্পানির বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে বিদ্যাধরের পরিবার। ওই কৃষকের অভিযোগ, ‘জমি দখল করার পাশাপাশি আমাদের পৈত্রিক বাড়ি ভেঙে দিয়েছে ওই কোম্পানি। নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলাম। এটাই ছিল অপরাধ। এখন মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই।’ সূত্রের খবর, গোথরার গ্রামে রয়েছে বিদ্যাধর ও তাঁর ভাই সুকদেবের ৩১ হাজার ১৮০ বর্গ মিটার জমি। জমিটি সিমেন্ট কোম্পানির খাদান এলাকার মধ্যে পড়ে যায়। ২০২১  ও ২০২৩ সালে প্রশাসনের আশ্বাস অনুযায়ী, তাঁদের ৩ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোম্পানি পুরো টাকা মেটায়নি। বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সিমেন্ট কোম্পানির গেটের সামনে সপরিবারে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন বিদ্যাধর। ঘটনার দিন তিনি আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকেন। খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে আসে প্রায় ১০০ পুলিসকর্মী। জীবন শেষ করার আগেই বিদ্যাধরের আটক করে পুলিস। পরে ১৭ ডিসেম্বর ওই কৃষককে অভিযানের খরচ বাবদ ৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫৭৭ টাকা মেটানোর নির্দেশ দেন এসপি শারদ চৌধুরী। এরপরেই শুরু হয় বিতর্ক।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ