নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হাইপ্রোফাইল এক বৈঠক। আর সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হাইপ্রোফাইল এক বৈঠক। আর সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা।
রাশিয়া এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নতুন কোনও ঘটনা নয়। আগেও বহুবার হয়েছে। কিন্তু আগামী পৃথিবী কোনদিকে যাবে, সেই দিশা নির্ধারিত হবে দুই রাষ্ট্রনেতার একটি বৈঠকে, এমন রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি আগে কখনও আসেনি। সেই কারণেই আজ, শুক্রবার আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের হাই ভোল্টেজ বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। বৈঠকের ঘোষিত অ্যাজেন্ডা—ইউক্রেনের যুদ্ধ। কিন্তু এই একটিমাত্র ইস্যুর আড়ালে আদতে শ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে বিশ্ববাণিজ্যের ভবিষ্যৎ। ইতিমধ্যে একবিংশ শতকের পৃথিবীকে ষাট-সত্তর বছর পুরনো আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের শীতল যুদ্ধের সময়কালে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন ট্রাম্প। সেই সময়ে পৃথিবী ছিল দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির রাষ্ট্রগুলি। অন্য শিবিরে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট রাষ্ট্ররা। বিভেদের সেই পুরনো আবহ ফিরিয়ে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌজন্যে। বর্তমানেও একদিকে রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্য-বন্ধু রাষ্ট্রগোষ্ঠী।
এই অবস্থায় ‘চিরন্তন বন্ধু’ রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করেছে ভারত। সেই অপরাধে ট্রাম্প সবথেকে বেশি সাজা দিতে চাইছেন ভারতকে। অন্য দেশগুলি রাশিয়া থেকে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ সামগ্রী কিনলেও তাদের সাত খুন মাফ। এমনকী আমেরিকা নিজেও রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস কেনে। তালিকায় রয়েছে চীনও। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে ভারতকে টার্গেট করেছেন ট্রাম্প। ভারতের উপর শুল্ক ও জরিমানার পরিমাণ উত্তরোত্তর বাড়ছে। বিশ্বজোড়া বাণিজ্যযুদ্ধের এক নতুন পরিবেশ তৈরি করে এখন পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন ট্রাম্প। এই বৈঠকের ব্যর্থতা ও সাফল্যের সঙ্গে ভারতের স্বার্থও প্রবলভাবে জড়িয়ে। বিশেষজ্ঞ মহলের আশা, রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি হলে ট্রাম্প হয়তো রাশিয়ার বন্ধুদের বিরুদ্ধে কড়া বাণিজ্যশুল্ক আরোপ করবেন না। বৈঠকের প্রাক্কালে সেকথাই শোনা গিয়েছে মার্কিন সরকারের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেটের গলায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক যদি সফল না হয়, তাহলে সম্ভবত ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ আরও বাড়বে।
ট্রাম্পের ঘোষণামতো আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বলবৎ হতে চলেছে। সুতরাং আজ যদি কোনও সমাধান না হয়, তাহলে ভারতের বহির্বাণিজ্য চরম ধাক্কা খাবে। এদিকে, আজকের বৈঠকের মূল অ্যাজেন্ডা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, ইউক্রেনের যুদ্ধ কোন শর্তে রাশিয়া থামাবে, সেই বৈঠকে ইউক্রেনকেই অংশ করা হয়নি। অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষ এবং আক্রমণকারী দেশের বৈঠকের উপরেই নির্ভর করছে ইউক্রেনের ভাগ্য। অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের আর করার কিছু নেই।