Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্যালাইন কাণ্ড: সাসপেনশন উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যালের ৩ চিকিৎসকের

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ৩ চিকিৎসকের সাসপেনশন উঠল। মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহায়তায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

স্যালাইন কাণ্ড: সাসপেনশন উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যালের ৩ চিকিৎসকের
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: স্যালাইন কাণ্ডে একে একে শাস্তির খাঁড়া উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অভিযুক্ত চিকিৎসকদের উপর থেকে। বুধবার সাসপেনশন উঠে গিয়েছিল সদ্য অবসর নেওয়া প্রসূতি বিভাগের তৎকালীন প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিনের। বৃহস্পতিবার সাসপেনশন উঠল হাসপাতালের সুপার তথা এমএসভিপি জয়ন্তকুমার রাউত সহ আরও দুই চিকিৎসকের। শুক্রবার কাজেও যোগ দিয়েছেন ওই দুই চিকিৎসক। সুপার জয়ন্তকুমার রাউত অবশ্য এদিন কাজে যোগ দিতে পারেননি। সাসপেনশন প্রত্যাহারের চিঠিতে তাঁকে ‘প্রাক্তন সুপার’ হিসেবে উল্লেখ করাতেই ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, কাজে যোগ দিতে চেয়ে তিনি মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালকে চিঠিও দিয়েছেন। তবে, এখনও সাসপেনশন ওঠেনি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অপর দুই সিনিয়র চিকিৎসকের। এদিন সুপার জয়ন্তকুমার রাউত সহ চিকিৎসকরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। সেইসঙ্গেই তাঁরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেদিনীপুর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান শঙ্কর গুছাইতকেও।  

Advertisement

২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ‘মাতৃমা’ বিভাগে সিজারের পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পাঁচ প্রসূতি। ‘নিষিদ্ধ’ রিঙ্গার্স ল্যাক্টেড স্যালাইনের প্রয়োগেই অসুস্থ হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। ১০ জানুয়ারি মামণি রুইদাস নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। ১৬ জানুয়ারি রেখা সাউ নামে আর এক প্রসূতির সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যু হয়। বাকি প্রসূতিরা চিকিৎসাধীন ছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যেই নাসরিন খাতুন নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয় ওই বছর ১১ মে। বাকিরা অবশ্য সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই ঘটনাতেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গড়ে স্বাস্থ্যদপ্তর। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি হাসপাতালের সুপার, প্রসূতি বিভাগের প্রধান সহ সিনিয়র ও জুনিয়র মিলিয়ে ১৩ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়। ৭ জুনিয়র চিকিৎসকের সাসপেনশন অবশ্য ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই উঠে যায়। সিনিয়র চিকিৎসকদের তরফে প্রসূতি বিভাগের তৎকালীন প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিন ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন। রাজ্যে পরিবর্তনের পরই মহম্মদ আলাউদ্দিন সহ সিনিয়র চিকিৎসকদের উপর থেকে সাসপেনশন তুলে নেওয়ার দাবি ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন রাখে চিকিৎসক মহল। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে বেলদাতে এই স্যালাইন কাণ্ডে সরব হয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। 
শেষমেশ বুধবার সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয় মহম্মদ আলাউদ্দিনের। সমস্ত অভিযোগ থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ণ বেতন ও অবসরকালীন সুবিধা পুনর্বহালের  সিদ্ধান্ত  নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সাসপেনশন উঠল সুপার জয়ন্ত কুমার রাউত, প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক হিমাদ্রী নায়েক এবং আরএমও সৌমেন দাসের। প্রায় দেড় বছর পর কাজে যোগ দেন হিমাদ্রী বাবু ও সৌমেন বাবু। তৎকালীন সুপার জয়ন্ত কুমার রাউত বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। সেইসময়ই এই ঘটনা ঘটে। সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও আমাকে সাসপেন্ড হতে হয়। ধন্যবাদ জানাই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সহ মেদিনীপুরের বিধায়ককে। এই কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন সকলের প্রতিই কৃতজ্ঞতা।’ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কার্যনির্বাহী সুপার ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আশা করব, বাকি দুই চিকিৎসকেরও সাসপেনশন দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।’ বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘সাসপেনশন প্রত্যাহার হয়েছে। এবার সঠিক তদন্তের প্রয়োজন। কিভাবে ওই নিষিদ্ধ ও ভেজাল স্যালাইন এখানে এসেছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ