নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশের পরই শুরু হয়েছে জেলায় জেলায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ। আর সেই ক্ষোভকেই একেবারে কমিশনের দরজায় এনে ফেলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবৈধভাবে তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদের প্রতিবাদে ধর্মতলায় লাগাতার ধরনা-কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলার শাসক দল। অন্যদিকে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তরের সামনে অবস্থানে বসেছে বামেরা। এই আবহেই রবিবার সন্ধ্যায় শহরে পা রাখল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি এসেছেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, সোমবার এবং আগামী কাল মঙ্গলবার ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে তাঁদের।
তবে এসআইআরকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন পরিস্থিতি রাজ্যে তৈরি হয়েছে, তাতে কমিশনের ফুল বেঞ্চকে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যেভাবে অপরীক্ষিত একটি এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। ইতিমধ্যে ভোটমুখী চারটি রাজ্যে ঘুরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেক্ষেত্রে তারা দিল্লি ফিরে যাওয়ার পরই যে কোনো দিন নির্বাচনি নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে যাবে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে। তার আগে অবশ্য কালীঘাট ও বেলুড় মঠে যাওয়ার কথা রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের। তবে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক নিয়েই আগ্রহ বাড়ছে ভোটারদের। জানা যাচ্ছে, ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যে প্রতিনিধি দল দেখা করতে যাবে, তাতে রয়েছেন সদ্য প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী রাজীব কুমারকে। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পাঠাচ্ছে তৃণমূল।