নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর কয়েকদিন বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে বিতর্ক বেড়েই চলেছে। বাম ও বিজেপি, দুই শিবির থেকেই এই স্টল নিয়ে হুঁশিয়ারি আসছেই। তার মধ্যেই বই গোছানো শুরু করছে সিপিএম। কী কী নতুন বই এবার থাকবে সিপিএমের স্টলে? তার আভাস ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর লেখা ‘দেশপ্রেমের খতিয়ান স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাভাগ’ বইটি প্রকাশিত হতে চলেছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিয়ে বিভিন্ন মানুষের স্মৃতিচারণা নিয়ে একটি বইও প্রকাশিত হতে চলেছে। বুক স্টলে ‘শারোদত্সব’ লেখার বদলে ‘দুর্গাপুজো’ লিখতে হবে, এমন কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছ থেকে শোনা গিয়েছিল। এরপর বিভিন্ন বিজেপি নেতার তরফে বামেদের বুক স্টল বিরোধী মন্তব্য শোনা গিয়েছিল। গত রবিবার ধর্মতলার সমাবেশ থেকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, বুক স্টল করতে দেবে না! বাপের জমিদারি নাকি? আরও বলেছিলেন, বইয়ের বিক্রি বাড়লে মদের বিক্রি কমবে। বুক স্টলে যে পুজোর সময় ‘আক্রমণ’ হতে পারে, সেই আশঙ্কা করছে বামেরা। আগামী ২৬ তারিখ কলকাতায় ও ২৮ তারিখ শিলিগুড়িতে স্টল নিয়ে নেতৃত্ব বৈঠকে বসবেন বলে খবর। এবার ‘স্বামী বিবেকাননন্দ-মার্কসবাদীদের দৃষ্টিতে’ ও ইএমএস নাম্বুরিদিপাদের লেখা ‘আদি শঙ্করাচার্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ বেশি সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে বলে খবর। বিমান বসুকে নিয়ে ওই বইটির নাম ‘আমাদের চেয়ারম্যান’। এই বইটি সম্পাদনা করেছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত। প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, মহম্মদ সেলিম ও সূর্যকান্ত মিশ্রের মতো নেতারা বিমান বসুকে নিয়ে অনুভূতির কথা লিখেছেন। তেমনই তরুণ মুখ ময়ূখ বিশ্বাস, সৃজন ভট্টাচার্য, বিভিন্ন নাট্যকার, সাংবাদিকরা সহ ৩০ জনের বেশি কলম ধরেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানকে নিয়ে। সুদীপবাবু বলছিলেন, ‘আগামী ৭ তারিখ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই এই বইয়ের উদ্বোধন হবে। বিমান বসু বরাবরই আত্মপ্রচারবিমুখ। কেউ তাঁকে ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাসী’ বলেন, কেউ বলেন ‘রাজনৈতিক বিপ্লবী’। এরকম একজন মানুষকে নিয়ে তাঁর সহকর্মীদের লেখা নিশ্চয় সকলের ভালো লাগবে।’



