Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

প্রযুক্তি থেকে খেলাধুলো, নারীদের অবদান স্মরণ ভারতীয় হাই কমিশনে

প্রযুক্তি থেকে ক্রীড়া। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁদের সেই অবদানকে স্মরণ করল ব্রিটেনের ভারতীয় হাইকমিশন।

প্রযুক্তি থেকে খেলাধুলো, নারীদের অবদান স্মরণ ভারতীয় হাই কমিশনে
  • ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: প্রযুক্তি থেকে ক্রীড়া। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁদের সেই অবদানকে স্মরণ করল ব্রিটেনের ভারতীয় হাইকমিশন। এই উপলক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বিষয় ছিল, ‘ভয়েসেস অব ইম্প্যাক্ট: উইমেন লিডিং দ্য পাবলিক ডিসকোর্স’। বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শেক্সপিয়ার্স গ্লোবের চিফ ইম্প্যাক্ট অফিসার লটি বার্ডসল-স্ট্রং, বিশিষ্ট সাংবাদিক জ্যাসমিন ডটিওয়ালা ওবিই। সঙ্গে ছিলেন গ্রান্থাম ইনস্টিটিউট অব ক্লাইমেট চেঞ্জের সহকারী অধ্যাপক ডঃ রেশমা রাও ও সোয়ান চেম্বারের ব্যারিস্টার শোভনা আইয়ার। সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর শেহলা রাজা হাসান। 

Advertisement

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন ব্রিটেনে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। তাঁর কথায়, ‘পাঁচ ও ছয়ের দশকে মেয়েদের আইএফএস হওয়া খুব মুশকিল ছিল। পরবর্তীতে এই নিয়মকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন এক মহিলা। তাঁর এই প্রতিবাদের কারণেই ব্যবস্থা বদলেছে। বিপ্লব সবসময় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আসে না। ভারতীয় মহিলাদের প্রত্যেক পদক্ষেপ বদলের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে।’ সৃজনশীল ক্ষেত্রে প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন মহিলারা। এবিষয়ে জ্যাসমিন ডটিওয়ালা বলেন, ‘তিন দশক ধরে একই প্রবণতা দেখে আসছি। মহিলারা আসছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার পাচ্ছেন না। মহিলাদের কথা ভেবে নতুন করে সবকিছু সাজাতে হবে।’
ছোটোবেলায় ফুটবল খেলতে ছেলে সাজতেন লটি বার্ডসল-স্ট্রং। গুরিন্দর চাড্ডার ‘বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম’ সিনেমাটি দেখার পরেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রের নাট্য রূপায়ণে সিনেমার ক্রিয়েটিভ টিমের সঙ্গে কাজ করেন লটি। তাঁর কথায়, ‘ক্রীড়া আমাকে একটি পরিবার দিয়েছে।’
গবেষণা ক্ষেত্রে মহিলাদের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন রেশমা। ২০১০ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে সাদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন তিনি। রেশমার কথায়, ‘১৫০ জনের ক্লাসে মাত্র চারজন মহিলা ছিলাম। মেয়েরা বৈজ্ঞানিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ামাত্র রাস্তাটা কঠিন হয়ে ওঠে। গবেষকদের পথ দেখানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন নারী ও পুরুষ মেন্টররা।’ বর্তমানে ব্রিটেন ও ওয়েলসে ৪০ শতাংশ মহিলা ব্যারিস্টার রয়েছেন। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য থেকেই যাচ্ছে। এবিষয়ে ব্যারিস্টার শোভনা আইয়ার বলেন, ‘বহু ক্ষেত্রে নারীদের কম লাভজনক জায়গায় ঠেলে দেওয়া হয়। পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলেই তা বোঝা যাবে। অনেক সময় মনে হয়, আমরা কি সত্যিই ভালো? বাধা অতিক্রম করতে হলে প্রথমে সেগুলিকে স্বীকার করতে হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ