


তেল আবিব, ১০ অক্টোবর: ২০২৩-এর ৭ অক্টোবর। সীমান্ত টপকে ইজরায়েলে ঢুকে হামলা চালায় হামাস। পণবন্দি করা হয় ইজরায়েলি সহ বহু দেশের নাগরিকদের। তারপর থেকেই হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল ইজরায়েল। হামাস জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে ধ্বংসলীলা চলে গাজায়। তবে সেই চিত্রের বদল ঘটতে চলেছে। দু’বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হচ্ছে। গতকাল, বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের অধিকাংশ শর্ত মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের হামাস গোষ্ঠী । প্রস্তাব অনুযায়ী, সকল ইজরায়েলি পণবন্দিকে ছেড়ে দেবে হামাস। বিনিময়ে যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেবে ইজরায়েল। দু’বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে গত মাসে ২০ দফা প্রস্তাব রেখেছিলেন ট্রাম্প।
সূত্রের খবর, মিশরে ইজরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধিরা সেই প্রস্তাবগুলির অধিকাংশই মেনে নিয়েছেন। চুক্তির শর্ত মেনে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি শুরুর কথা জানিয়েছে ইজরায়েল। এই বিষয়ে যখন গতকাল, বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, তখনই তাঁর কাছে ফোন যায় ভারতের তরফে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ‘বন্ধু’ নেতানিয়াহুকে গাজায় শান্তি চুক্তি প্রসঙ্গে ফোন করেন। শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তাঁরা। সূত্রের খবর, মোদি যখন ফোন করেছিলেন তখনই নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার বৈঠক করছিলেন নেতানিয়াহু। যাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও পণবন্দিদের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। সেই বৈঠক মাঝপথে থামিয়েই মোদির ফোন ধরেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এমনটাই জানাচ্ছে তেল আবিবের সংবাদমাধ্যম।
গতকালই মোদি এক্সে লেখেন, ‘আমার বন্ধু নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলাম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গাজার শান্তি প্রস্তাবের অগ্রগতির জন্য ওঁকে অভিনন্দন জানালাম। পণবন্দিদের মুক্তি এবং গাজার মানুষের ত্রাণ সহায়তার ইতিবাচক চুক্তিকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তা মেনে নেওয়াও যায় না।’ আজ, শুক্রবার সকালে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি দ্রুত লাগু করা হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে গতকাল, জেরুজালেমে বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্বারা নিযুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ আধিকারিক স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাই। সেখানেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের শর্ত মেনে নিয়ে ভোট দেয় ইজরায়েল।