নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোথাও নদী সাঁতরে এপার ওপার হচ্ছে, তো কোথাও জঙ্গলের ধারে বসে রয়েছে। সুন্দরবনে এখন এভাবেই দেখা মিলছে দক্ষিণরায়ের। সপ্তাহে কখনও তিনবার, কখনও চারবার করে দেখা মিলছে ডোরা কাটা প্রাণীর। ইদানীংকালে সুন্দরবনে বাঘ ঘন ঘন দর্শন দেওয়ায় খুশি পর্যটকরা। দু’-এক বছর আগেও সুন্দরবন চষে বেড়ালেও বাঘের দেখা মিলত কপাল জোড়ে। এখন পর্যটকদের অনেকেই সুন্দরবন ঘুরে এক মুখ হাসি নিয়েই ঘরে ফিরছেন। বনবিভাগের দাবি, নিঃসন্দেহে জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে বাঘ এখন নতুন এলাকা খুঁজছে। তাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছে নদী বা খাঁড়ি সাঁতরে। সেই সময় পর্যটকদের ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে দক্ষিণরায়। আগামী দিনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাদাবনের জঙ্গলে আরও পর্যটক বাঘ দর্শনের জন্য আসবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু বাঘ নয়, বহু পর্যটক ব্যাঘ্রশাবকেরও দর্শন পেয়েছেন। ফলে বর্তমানে সুন্দরবনে বেড়ানোর প্রতি আগ্রহ বেড়েছে অনেকেরই। সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের সজনেখালি রেঞ্জে পীরখালি ১-৬ জঙ্গলে এখন বেশি ‘টাইগার সাইটিং’ হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। গাইডদের কথায়, গত এক মাসের মধ্যে ১২-১৪ বার জঙ্গলের বাইরের অংশে বাঘের দেখা মিলেছে।
সুন্দরবনে বেড়াতে এসে বোটের কর্মী বা গাইডদের যে কথাটা পর্যটকরা সাধারণত বলে থাকেন তা হল, বাঘ দেখা যাবে তো! কেউ নিশ্চিত করে তা বলতে না পারলেও এখন যেভাবে ঘন ঘন বাঘ দেখা যাচ্ছে, তাতে পর্যটকদের প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছে। যে সব এলাকায় বাঘের দর্শন মিলছে বেশি, তার আশপাশ দিয়েই চলাচল করছে বোটগুলি। তবে এক্ষেত্রে বোটের চালক ও গাইডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁদের সবসময় দক্ষিণরায়ের গতিবিধি অনুমান করে চলতে হয়। সুন্দরবন ইকো ট্যুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অনির্বাণ মণ্ডল বলেন, অভিজ্ঞ গাইডরা দূরবীণ দিয়ে বিভিন্ন দ্বীপে নজরদারি চালান। কোথাও বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেলেই হল, জঙ্গল থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সেই চত্বরের চারপাশে ঘোরার জন্য বোট চালককে নির্দেশ দেন গাইডরা। বাঘের পথ অনুমান করেই সবটা করতে হয়। এর ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঘের দেখা মিলেছে।