Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১০০ কিমি গতিতে ছুটবে মালগাড়ি , পরীক্ষার জন্য হাই স্পিড ট্র্যাক চিত্তরঞ্জনে

১০০ কিমি গতিতে ছুটবে মালগাড়ি , পরীক্ষার জন্য হাই স্পিড ট্র্যাক চিত্তরঞ্জনে
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চিত্তরঞ্জন: সংসদে দাঁড়িয়ে রেলমন্ত্রী বলেছিলেন, লোকোমোটিভ রপ্তানি করবে ভারত। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কসে (সিএলডব্লু) তৈরি হচ্ছে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ হাই স্পিড ট্র্যাক। এখন মালগাড়ি থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিবৃদ্ধিই পাখির চোখ ভারতীয় রেলের। চিত্তরঞ্জনে তৈরি হচ্ছে উচ্চগতি সম্পন্ন রেল ইঞ্জিন। সেই ইঞ্জিন সত্যিই একশো কিলোমিটার গতিবেগে ছুটতে পারে কি না তা পরীক্ষা করা হবে ওই ট্র্যাকে। এতদিন ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ গতি পরীক্ষা করে দেখতে একটি জায়গায় চাকা ঘুরিয়ে মেশিন দিয়ে গতিবেগ মাপা হতো। এবার থেকে কারখানা থেকেই ইঞ্জিনকে সর্বোচ্চ গতিতে ছুটিয়ে পরীক্ষা করা যাবে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকটি তৈরি করা হবে যাতে কারখানা থেকে উৎপাদিত ইঞ্জিন একশো কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারছে কিনা তা হাতেনাতে পরীক্ষা করা যায়। পাশাপাশি এবার থেকে প্রতিটি রেল ইঞ্জিনে যুক্ত করা হচ্ছে ওয়াটার লেস শৌচালয়। এসবই করা হচ্ছে রেল ইঞ্জিনের বিশ্ববাজার ধরতে।  সিএলডব্লুর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার উত্তরকুমার মাইতি বলেন, রেল ইঞ্জিনগুলির গতি পরীক্ষার জন্য সাত কিলোমিটার হা‌ই ঩স্পিড রেল ট্র্যাক তৈরি হবে। আমরা বহু অত্যাধুনিক ইঞ্জিন তৈরি করছি। প্রতিটি ইঞ্জিনের সঙ্গে এবার ওয়াটার লেস শৌচালয়ও যুক্ত করা হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পূর্ব রেলওয়ে ১০০.২৮ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করেছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশের বেশি। পণ্য পরিবহণ করে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা আয় করছে ভারতীয় রেল। পণ্য পরিবহণই এখন পাখির চোখ। সেই পণ্য পরিবহণে এবার গতি আনতে মরিয়া রেল মন্ত্রক। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পণ্যবাহী মালগাড়িগুলি এখন গড়ে ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। সেই গতি বাড়িয়ে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার করার প্রস্তুতি নিয়েছে রেল। তাই মালগাড়ির ইঞ্জিনের আঁতুড়ঘর সিএলডব্লুতে পরিকাঠামো উন্নয়নে বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। চিত্তরঞ্জনে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক রেল ইঞ্জিন। এই অর্থবর্ষে তাঁরা ৭৪ সেট ডব্লুএজি ৯ এইচসি টুইন লোকো তৈরি করেছে। যাতে ৬ হাজার হর্স পাওয়ারের দু’টি ইঞ্জিন থাকে। এই ইঞ্জিনগুলি পাহাড়ী এলাকাতেও ওয়াগন টেনে নিয়ে যায়। এবার সেগুলি অতিরিক্ত গতিবেগ সম্পন্ন হতে চলেছে। 

Advertisement

উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন, ইঞ্জিনের গতিবৃদ্ধির পাশাপাশি চালকের সুবিধার বিষয়টি নিয়েও কাজ চলছে দেশের সর্ববৃহৎ এই রেল ইঞ্জিন কারখানায়। জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে উৎপাদিত প্রতিটি ইঞ্জিনে শৌচালয় বসানো হবে। তবে সেক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন অর্থবর্ষ শুরু হলেও শৌচালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আসেনি। তাই অর্থবর্ষের শুরুতে তৈরি হওয়া ইঞ্জিনগুলির সঙ্গে পরে কীভাবে শৌচালয় যুক্ত করা যাবে তা নিয়ে চিন্তায় কর্তৃপক্ষ। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ